তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: বিজ্ঞ ও মর্যাদাশীল ব্যক্তিই ইমামাতের অধিক যোগ্য। | বর্ণনাকারী: আনাস (রাযি.)
হাদিস নং (৬৮১): আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রোগাক্রান্ত থাকায়) তিনদিন পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে আসেননি। এমতাবস্থায় একসময় সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হল। আবূ বকর (রাযি.) ইমামাত করার জন্য অগ্রসর হচ্ছিলেন। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরের পর্দা ধরে উঠালেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারা যখন আমাদের সম্মুখে প্রকাশ পেল, তাঁর চেহারার চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আমরা আর কখনো দেখিনি। যখন তাঁর চেহারা আমাদের সম্মুখে প্রকাশ পেল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইঙ্গিতে আবূ বকর (রাযি.)-কে (ইমামাতের জন্য) এগিয়ে যেতে বললেন এবং পর্দা ফেলে দিলেন। তারপর মৃত্যুর আগে তাঁকে আর দেখতে পাইনি।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: বিজ্ঞ ও মর্যাদাশীল ব্যক্তিই ইমামাতের অধিক যোগ্য। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (৬৮২): আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রোগ যখন খুব বেড়ে গেল, তখন তাঁকে সালাতের জামা‘আত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, আবূ বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমি বললাম, আবূ বকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল মনের লোক। কিরাআতের সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়বেন। তিনি বললেন, তাঁকেই সালাত আদায় করতে বল। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) সে কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। তিনি আবার বললেন, তাঁকেই সালাত আদায় করতে বল। তোমরা ইউসুফ (‘আ.)-এর সাথী মহিলাদের মত। এ হাদীসটি যুহরী (রহ.) হতে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে যুবাইদী, যুহরীর ভাতিজা ও ইসহাক ইবনু ইয়াহ্ইয়া কালবী (রহ.) ইউনুস (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। এবং মা‘মার ও উকাইল (রহ.) যুহরী (রহ.)-এর মাধ্যমে হামযাহ (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি (মুরসাল হিসেবে) বর্ণনা করেন।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: কারণবশত ইমামের পাশে দাঁড়ানো। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৬৮৩): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাযি.)-কে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। ‘উরওয়াহ (রহ.) বর্ণনা করেন, ইতোমধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু সুস্থতাবোধ করলেন এবং সালাতের জন্য বেরিয়ে আসলেন। তখন আবূ বকর (রাযি.) লোকদের ইমামাত করছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখে পিছিয়ে আসতে চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইঙ্গিত করলেন যে, যেভাবে আছ সেভাবেই থাক। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাযি.)-এর বরাবর তাঁর পাশে বসে গেলেন। তখন আবূ বকর (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অনুসরণ করে সালাত আদায় করছিলেন আর লোকেরা আবূ বকর (রাযি.)-কে অনুসরণ করে সালাত আদায় করছিল।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: কোন ব্যক্তি লোকদের ইমামাত করার জন্য অগ্রসর হলে যদি পূর্ব (নির্ধারিত) ইমাম এসে যান তা’হলে তিনি পিছে সরে আসুন বা না আসুন উভয় অবস্থায় তাঁর সালাত আদায় হয়ে যাবে। | বর্ণনাকারী: সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাযি.)
হাদিস নং (৬৮৪): সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনু আওফ গোত্রের এক বিবাদ মীমাংসার জন্য সেখানে যান। ইতোমধ্যে (আসরের) সালাতের সময় হয়ে গেলে, মুয়ায্যিন আবূ বকর (রাযি.)-এর নিকট এসে বললেন, আপনি কি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেবেন? তা হলে ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেই? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আবূ বকর (রাযি.) সালাত আরম্ভ করলেন। লোকেরা সালাতরত অবস্থাতেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং তিনি সারিগুলো ভেদ করে প্রথম সারিতে গিয়ে দাঁড়ালেন। তখন সাহাবীগণ হাতে তালি দিতে লাগলেন। আবূ বকর (রাযি.) সালাতে আর কোন দিকে তাকাতেন না। কিন্তু সাহাবীগণ যখন অধিক করে হাতে তালি দিতে লাগলেন, তখন তিনি তাকালেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করলেন- নিজের জায়গায় থাক। তখন আবু বাকর (রাযি.) দু‘হাত উঠিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে পিছিয়ে গেলেন এবং কাতারের বরাবর দাঁড়ালেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে এগিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি বললেন, হে আবূ বকর! আমি তোমাকে নির্দেশ দেয়ার পর কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছিল? আবূ বকর (রাযি.) বললেন, আবূ কুহাফার পুত্রের জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা শোভনীয় নয়। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদের এক হাতে তালি দিতে দেখলাম। কারণ কী? শোন! সালাতে কারো কিছু ঘটলে সুবহানাল্লাহ্ বলবে। সুবহানাল্লাহ্ বললেই তার প্রতি দৃষ্টি দেয়া হবে। আর হাতে তালি দেয়া তো মহিলাদের জন্য।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: কয়েক ব্যক্তি কিরা‘আত পাঠে সমান হলে, তাদের মধ্যে বয়সে বড় ব্যক্তি ইমাম হবেন। | বর্ণনাকারী: মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাযি.)
হাদিস নং (৬৮৫): মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদল যুবক একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে উপস্থিত হলাম এবং প্রায় বিশ রাত্রি আমরা সেখানে থাকলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। তাই তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা যখন নিজ দেশে ফিরে গিয়ে লোকদের দ্বীন শিক্ষা দিবে, তখন তাদের এ সময়ে অমুক সালাত আদায় করতে বলবে এবং ঐ সময়ে অমুক সালাত আদায় করতে বলবে। অতঃপর যখন সালাতের সময় হয় তখন তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে বয়সে বড় ব্যক্তি ইমামাত করবে।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: ইমাম অন্য লোকদের নিকট উপস্থিত হলে, তাদের ইমামাত করতে পারেন। | বর্ণনাকারী: ইতবান ইবনু মালিক আনসারী (রাযি.)
হাদিস নং (৬৮৬): ইতবান ইবনু মালিক আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমার গৃহে প্রবেশের) অনুমতি চাইলে তাঁকে অনুমতি দিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার ঘরের কোন জায়গাটি আমার সালাত আদায়ের জন্য তুমি পছন্দ কর। আমি আমার পছন্দ সই একটি স্থান ইঙ্গিত করে দেখালে তিনি সেখানে সালাতের জন্য দাঁড়ালেন, আমরা তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। অতঃপর তিনি সালাম ফিরালেন এবং আমরা সালাম ফিরালাম।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: ইমাম নির্ধারণ করা হয় অনুসরণ করার জন্য। | বর্ণনাকারী: উবাইদুল্লাহ্ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু উতবাহ (রহ.)
হাদিস নং (৬৮৭): উবাইদুল্লাহ্ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু উতবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বললাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর (অন্তিম কালের) অসুস্থতা সম্পর্কে কি আপনি আমাকে কিছু শুনাবেন? তিনি বললেন, অবশ্যই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারাত্মকভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল! তাঁরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি দাও। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন। অতঃপর একটু উঠতে চাইলেন, কিন্তু বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর একটু হুঁশ ফিরে পেলে আবার তিনি জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল! তাঁরা আপনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি রাখ। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন। আবার উঠতে চাইলেন, কিন্তু বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর আবার হুঁশ ফিরে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল! তাঁরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি রাখ। অতঃপর তিনি উঠে বসলেন, এবং গোসল করলেন। এবং উঠতে গিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর আবার হুঁশ ফিরে পেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সালাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রাসূল! তাঁরা আপনার জন্য অপেক্ষারত। ওদিকে সাহাবীগণ ‘ইশার সালাতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অপেক্ষায় মসজিদে বসে ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাযি.)-এর নিকট এ মর্মে একজন লোক পাঠালেন যে, তিনি যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেন। সংবাদ বাহক আবূ বকর (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। আবূ বকর (রাযি.) অত্যন্ত কোমল মনের লোক ছিলেন, তাই তিনি ‘উমার (রাযি.)-কে বললেন, হে ‘উমার! আপনি সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করে নিন। ‘উমার (রাযি.) বললেন, আপনিই এর অধিক যোগ্য। তাই আবূ বকর (রাযি.) সে কয়দিন সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু নিজে হাল্কাবোধ করলেন এবং দু’জন লোকের কাঁধে ভর করে যুহরের সালাতের জন্য বের হলেন। সে দু’জনের একজন ছিলেন ‘আব্বাস (রাযি.)। আবূ বকর (রাযি.) তখন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলেন, পিছনে সরে আসতে চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পিছিয়ে না আসার জন্য ইঙ্গিত করলেন এবং বললেন, তোমরা আমাকে তাঁর পাশে বসিয়ে দাও। তাঁরা তাঁকে আবূ বকর (রাযি.)-এর পাশে বসিয়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আবু বাকর (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাতের ইক্তিদা করে সালাত আদায় করতে লাগলেন। আর সাহাবীগণ আবূ বকর (রাযি.)-এর সালাতের ইক্তিদা করতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উপবিষ্ট ছিলেন। ‘উবাইদুল্লাহ্ বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অন্তিম কালের অসুস্থতা সম্পর্কে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আমাকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তা কি আমি আপনার নিকট বর্ণনা করব না? তিনি বললেন, করুন। তাই আমি তাঁকে সে হাদীস শুনালাম। তিনি এ বর্ণনার কোন অংশেই আপত্তি করলেন না, তবে তাঁকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন যে, ‘আব্বাস (রাযি.)-এর সাথে যে অপর এক সাহাবী ছিলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) কি আপনার নিকট তাঁর নাম বলেছেন? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি ‘আলী (রাযি.)।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: ইমাম নির্ধারণ করা হয় অনুসরণ করার জন্য। | বর্ণনাকারী: উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৬৮৮): উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার অসুস্থ থাকার কারণে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজগৃহে সালাত আদায় করেন এবং বসে সালাত আদায় করছিলেন, একদল সাহাবী তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তিনি তাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন যে, বসে যাও। সালাত শেষ করার পর তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁর ইক্তিদা করার জন্য। কাজেই সে যখন রুকূ‘ করে তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে এবং সে যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠায় তখন তোমরাও মাথা উঠাবে, আর সে যখন বসে সালাত আদায় করে, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করবে।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: ইমাম নির্ধারণ করা হয় অনুসরণ করার জন্য। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (৬৮৯): আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ায় সওয়ার হন অতঃপর তিনি তা হতে পড়ে যান, এতে তার ডান পাশে একটু আঘাত লাগে। তিনি কোন এক ওয়াক্তের সালাত বসে আদায় করছিলেন, আমরাও তাঁর পিছনে বসে সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষ করার পর তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণই করা হয় তাঁর ইক্তিদা করার জন্য। কাজেই ইমাম যখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, সে যখন রুকূ‘ করে থাকে তোমরাও রুকু‘ করবে, সে যখন উঠে, তখন তোমরাও উঠবে, আর সে যখন سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে তখন তোমরা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলবে। আর সে যখন বসে সালাত আদায় করে, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করবে। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, হুমাইদী (রহ.) বলেছেন যে, ‘‘যখন ইমাম বসে সালাত আদায় করে, তখন তোমরাও বসে সালাত আদায় করবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এ নির্দেশ ছিলো পূর্বে অসুস্থকালীন। অতঃপর তিনি বসে সালাত আদায় করেন এবং সাহাবীগণ তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের বসতে নির্দেশ দেননি। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ‘আমলের মধ্যে সর্বশেষ ‘আমলই গ্রহণ করতে হবে।
অধ্যায়: আযান | উপ-অধ্যায়: মুক্তাদীগণ কখন সিজদা্তে যাবেন? | বর্ণনাকারী: বারাআ (রাযি.)
হাদিস নং (৬৯০): বারাআ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি মিথ্যাবাদী নন তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলার পর যতক্ষণ পর্যন্ত সিজদা্য় না যেতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ পিঠ বাঁকা করতেন না। তিনি সিজদা্য় যাওয়ার পর আমরা সিজদা্য় যেতাম। সুফইয়ান (রহ.) সূত্রে আবূ ইসহাক (রহ.) হতে এ রকমই বর্ণনা করেছেন।