অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: ফজর সালাত জামা‘আতে আদায়ের ফযীলত। |
বর্ণনাকারী: আবূ মূসা (রাযি.)
হাদিস নং (৬৫১):
আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মসজিদ হতে) যে যত অধিক দূরত্ব অতিক্রম করে সালাতে আসে, তার তত অধিক পুণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করা পর্যন্ত অপেক্ষা করে, তার পুণ্য সে ব্যক্তির চেয়ে অধিক, যে একাকী সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: প্রথম ওয়াক্তে যুহরের সালাতে যাওয়ার মর্যাদা। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৬৫২):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় রাস্তায় একটি কাঁটাযুক্ত ডাল দেখতে পেয়ে তা সরিয়ে ফেলল। আল্লাহ তা’আলা তার এ কাজ সাদরে কবুল করে তার গুনাহ মাফ করে দিলেন।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: প্রথম ওয়াক্তে যুহরের সালাতে যাওয়ার মর্যাদা। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৬৫৩):
অতঃপর আল্লাহর রাসূল বললেনঃ শহীদ পাঁচ প্রকার- ১. প্লেগে মৃত ব্যক্তি ২. কলেরায় মৃত ব্যক্তি ৩. পানিতে নিমজ্জিত ব্যক্তি ৪. চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং ৫. আল্লাহর পথে (জিহাদে) শহীদ। তিনি আরও বলেছেনঃ মানুষ যদি আযান দেয়া এবং প্রথম কাতারে সালাত আদায় করার কী ফাযীলাত তা জানত আর কুরআহর মাধ্যমে ফায়সালা করা ছাড়া সে সুযোগ না পেতো, তাহলে কুরআহর মাধ্যমে হলেও তারা সে সুযোগ গ্রহণ করতো।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: প্রথম ওয়াক্তে যুহরের সালাতে যাওয়ার মর্যাদা। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৬৫৪):
আর আউয়াল ওয়াক্ত (যুহরের সালাতে যাওয়ার) কী ফাযীলত তা যদি মানুষ জানত, তাহলে এর জন্য তারা অবশ্যই সর্বাগ্রে যেত। আর ‘ইশা ও ফজর সালাত (জামা‘আতে) আদায়ে কী ফাযীলাত, তা যদি তারা জানত তা হলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এজন্য অবশ্যই উপস্থিত হতো।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: (মসজিদে গমনে) প্রতি পদক্ষেপে পুণ্যের আশা রাখা। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (৬৫৫):
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে বানী সালিমাহ! তোমরা কি (মসজিদে আসার পথে) তোমাদের পদক্ষেপের নেকী কামনা কর না? وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ ‘‘তাদের কর্ম ও কীর্তিসমূহ লিখে রাখি’’ (সূরাহ্ ইয়া সীন ৩৬/১২) তাঁর এ বাণী সম্পর্কে মুজাহিদ বলেন। خُطَاهُمْ অর্থাৎ তোমাদের পদক্ষেপসমূহ।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: (মসজিদে গমনে) প্রতি পদক্ষেপে পুণ্যের আশা রাখা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু মারইয়াম (রহ.)
হাদিস নং (৬৫৬):
ইবনু মারইয়াম (রহ.) বলেন, আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। বানী সালিমা গোত্রের লোকেরা নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বসতি স্থাপন করতে চেয়েছিল। আনাস (রাযি.) বলেন, কিন্তু মাদ্বীনার কোনো এলাকা একেবারে শূন্য হওয়াটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করেননি। তাই তিনি বলেনঃ তোমরা কি (মসজিদে আসা যাওয়ায়) তোমাদের পদচিহ্নগুলোর সওয়াব কামনা কর না? মুজাহিদ (রহ) বলেন, خُطَاهُمْ آثَارُهُمْ অর্থাৎ যমীনে চলার পদচিহ্নসমূহ।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: ‘ইশার সালাত জামা‘আতে আদায় করার ফযীলত। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৬৫৭):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিকদের জন্য ফজর ও ‘ইশার সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী সালাত আর নেই। এ দু’ সালাতের কী ফাযীলাত, তা যদি তারা জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো। (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন) আমি ইচ্ছে করেছিলাম যে, মুয়ায্যিনকে ইকামাত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামত করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে অতঃপর যারা সালাতে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: দু’জন বা ততোধিক ব্যক্তি হলেই জামা‘আত। |
বর্ণনাকারী: মালিক ইব্নু হুওয়াইরিস (রাযি.)
হাদিস নং (৬৫৮):
মালিক ইব্নু হুওয়াইরিস (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে র্বর্ণিত, তিনি বলেন: সালাতের সময় হলে তোমাদের দু’জনের একজন আযান দিবে এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বলবে। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে বয়সে অধিক বড় সে ইমামাত করবে।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: মসজিদে সালাতে অপেক্ষমান ব্যক্তি এবং মসজিদের ফযীলত। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৬৫৯):
আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার সালাতের স্থানে থাকে তার উযূ ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য মালাকগণ এ বলে দু‘আ করেন যে, হে আল্লাহ্! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ্! আপনি তার উপর রহম করুন। আর তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তির সালাতই তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়া হতে বিরত রাখে, সে সালাতে রত আছে বলে পরিগণিত হবে।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: মসজিদে সালাতে অপেক্ষমান ব্যক্তি এবং মসজিদের ফযীলত। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৬৬০):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে দিন আল্লাহর (রহমতের) ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিজের (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দিবেন।
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক,
২. সে যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে তার প্রতিপালকের ইবাদতের মধ্যে,
৩. সে ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে,
৪. সে দু’ ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালবাসে আল্লাহর ওয়াস্তে, একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য,
৫. সে ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহবান জানায়, কিন্তু সে এ বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’,
৬. সে ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাত তা জানে না,
৭. সে ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর যিকর করে, ফলে তার দু’ চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে।
|