অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: ‘আমরা সালাত আদায় করিনি’ কারো এরূপ বলা। |
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৬৪১):
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি সালাত আদায় করতে পারিনি, এমন কি সূর্য ডুবতে লাগলো, [জাবির (রাযি.) বলেন,] যখন কথা হচ্ছিলো তখন এমন সময়, যখন সওম পালনকারী ইফ্তার করে ফেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমিও সে সালাতআদায় করিনি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘বুতহান’ নামক উপত্যকায় গেলেন, আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। সেখানে তিনি উযূ করলেন এবং সূর্যাস্তের পরে তিনি (প্রথমে) ‘‘আসর সালাত আদায় করলেন, অতঃপর তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: ইক্বামাতের পর ইমামের কোন প্রয়োজন দেখা দিলে। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাযি.)
হাদিস নং (৬৪২):
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে গেছে তখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের এক পাশে এক ব্যক্তির সাথে একান্তে কথা বলছিলেন, অবশেষে যখন লোকদের ঘুম আসছিল তখন তিনি সালাতে দাঁড়ালেন।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: ইক্বামাত হয়ে গেলে কথা বলা। |
বর্ণনাকারী: হুমাইদ (রাঃ)
হাদিস নং (৬৪৩):
হুমাইদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) হয়ে যাবার পর কোন ব্যক্তি কথা বললে তার সম্পর্কে আমি সাবিত বুনানীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত একটি হাদীস বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন, সালাতের ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হয় এমন সময় এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলো এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের পরও তাঁকে কথার মধ্যে ব্যস্ত রাখল।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: জামা‘আতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৬৪৪):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! আমার ইচ্ছা হয়, জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করতে আদেশ দেই, অতঃপর সালাত কায়েমের আদেশ দেই, অতঃপর সালাতের আযান দেয়া হোক, অতঃপর এক ব্যক্তিকে লোকদের ইমামত করার নির্দেশ দেই। অতঃপর আমি লোকদের নিকট যাই এবং তাদের (যারা সালাতে শামিল হয়নি) ঘর জ্বালিয়ে দেই। যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! যদি তাদের কেউ জানত যে, একটি গোশ্তহীন মোটা হাড় বা ছাগলের ভালো দু’টি পা পাবে তাহলে অবশ্যই সে ‘ইশা সালাতের জামা‘আতেও হাযির হতো।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: জামা‘আতে সালাত আদায় করার মর্যাদা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.)
হাদিস নং (৬৪৫):
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামা‘আতে সালাতের ফাযীলত একাকী আদায়কৃত সালাত অপেক্ষা সাতাশ গুণ বেশী।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: জামা‘আতে সালাত আদায় করার মর্যাদা। |
বর্ণনাকারী: আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)
হাদিস নং (৬৪৬):
আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন, একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে জামা‘আতে সালাত আদায়ের ফাযীলাত পঁচিশ গুণ বেশী।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: জামা‘আতে সালাত আদায় করার মর্যাদা। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৬৪৭):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তির জামা‘আতের সাথে সালাতের সওয়াব, তার নিজের ঘরে ও বাজারে আদায়কৃত সালাতের সওয়াবের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণ এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযূ করলো, অতঃপর একমাত্র সালাতের উদ্দেশে মসজিদে রওয়ানা করল তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, মালাকগণ তার জন্য এ বলে দু‘আ করতে থাকেন - ‘‘হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।’’ আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: ফজর সালাত জামা‘আতে আদায়ের ফযীলত। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৬৪৮):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন যে, জামা‘আতের সালাত তোমাদের কারো একাকী সালাত হতে পঁচিশ গুণ অধিক সওয়াব রাখে। আর ফজরের সালাতে রাতের ও দিনের মালাকগণ একত্রিত হয়। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলতেন, তোমরা চাইলে (এর প্রমাণ স্বরূপ)’ (إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا) অর্থাৎ ‘‘ফজরের সালাতে (মালাকগণ) উপস্থিত হয়’’- (সূরাহ্ ইসরা ১৭/৭৮) এ আয়াত পাঠ কর।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: ফজর সালাত জামা‘আতে আদায়ের ফযীলত। |
বর্ণনাকারী: শু‘আয়ব (রহ.)
হাদিস নং (৬৪৯):
শু‘আয়ব (রহ.) বলেন, আমাকে নাফি‘ (রহ.) ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণনা করে শুনিয়েছেন যে, জামা‘আতের সালাতে একাকী সালাত হতে সাতাশ গুণ অধিক সওয়াব হয়।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: ফজর সালাত জামা‘আতে আদায়ের ফযীলত। |
বর্ণনাকারী: উম্মুদ দারদা (রাযি.)
হাদিস নং (৬৫০):
উম্মুদ দারদা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আবূ দারদা (রাযি.) ভীষণ রাগান্বিত অবস্থায় আমার নিকট এলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কিসে তোমাকে রাগান্বিত করেছে? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উম্মাতের মধ্যে জামা‘আতে সালাত আদায় বাদ দিয়ে তাঁর তরীকার আর কিছুই দেখছি না।
|