অধ্যায়: সালাতের সময়সমূহ |
উপ-অধ্যায়: ইশার পর জ্ঞানচর্চা ও কল্যাণকর বিষয়ের আলোচনা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাযি.)
হাদিস নং (৬০১):
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাঁর শেষ জীবনে ‘ইশার সালাত আদায় করে সালাম ফিরবার পর বললেনঃ আজকের এ রাত সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? আজ হতে নিয়ে একশ’ বছরের মাথায় আজ যারা ভূ-পৃষ্ঠে আছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। কিন্তু সাহাবীগণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ‘একশ’ বছরের’ এ উক্তি সম্পর্কে নানা রকম জল্পনা-কল্পনা করতে থাকলেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আজকে যারা জীবিত আছে তাদের কেউ ভূ-পৃষ্ঠে থাকবে না। এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, এ শতাব্দী ঐ যুগের পরিসমাপ্তি ঘটাবে।
|
অধ্যায়: সালাতের সময়সমূহ |
উপ-অধ্যায়: পরিবার-পরিজন ও মেহমানের সাথে রাতে কথাবার্তা বলা। |
বর্ণনাকারী: আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)
হাদিস নং (৬০২):
আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আসহাবে সুফ্ফা ছিলেন খুবই দরিদ্র। (একদা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার নিকট দু’জনের আহার আছে সে যেন (তাঁদের হতে) তৃতীয় জনকে সঙ্গে করে নিয়ে যায়। আর যার নিকট চারজনের আহারের সংস্থান আছে, সে যেন পঞ্চম বা ষষ্ঠজনকে সঙ্গে নিয়ে যায়। আবূ বকর (রাযি.) তিনজন সাথে নিয়ে আসেন এবং আল্লাহর রাসূল দশজন নিয়ে আসেন। আবদুর রহমান (রাযি.) বলেন, আমাদের ঘরে এবং আবূ বকরের ঘরে আমি, আমার পিতা ও মাতা (এই তিন জন সদস্য) ছিলাম। রাবী বলেন, আমি জানি না, তিনি আমার স্ত্রী এবং খাদিম একথা বলেছিলেন কি-না? আবূ বকর (রাযি.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ঘরেই রাতের আহার করেন, এবং ‘ইশার সালাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। ‘ইশা সালাতের পর তিনি আবার (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ঘরে) ফিরে আসেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর রাতের আহার শেষ করা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। আল্লাহর ইচ্ছায় রাতের কিছু সময় অতিবাহিত হবার পর বাড়ি ফিরলে তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, মেহমানদের নিকট আসতে কিসে আপনাকে ব্যস্ত রেখেছিল? কিংবা তিনি বলেছিলেন, (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মেহমান হতে। আবু বাকর (রাযি.) বললেন, এখনও তাদের খাবার দাওনি? তিনি বললেন, আপনি না আসা পর্যন্ত তারা খেতে অস্বীকার করেন। তাদের সামনে উপস্থিত করা হয়েছিল, তবে তারা খেতে সম্মত হননি। ‘আবদুর রহমান (রাযি.) বলেন, (পিতার তিরস্কারের ভয়ে) আমি সরে গিয়ে আত্মগোপন করলাম। তিনি (রাগান্বিত হয়ে) বললেন, ওরে বোকা এবং ভৎর্সনা করলেন। আর (মেহমানদের) বললেন, খেয়ে নিন। আপনারা অস্বস্তিতে ছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এ কখনই খাব না। ‘আবদুর রহমান (রাযি.) বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা লোক্মা উঠিয়ে নিতেই নীচ হতে তা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, সকলেই পেট ভরে খেলেন। অথচ পূর্বের চেয়ে অধিক খাবার রয়ে গেলো। আবূ বকর (রাযি.) খাবারের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন তা পূর্বের সমপরিমাণ কিংবা তার চাইতেও বেশি। তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন, হে বানূ ফিরাসের বোন। একি? তিনি বললেন, আমার চোখের প্রশান্তির কসম! এতো এখন পূর্বের চেয়ে তিনগুণ বেশি! আবূ বকর (রাযি.)-ও তা হতে আহার করলেন এবং বললেন, আমার সে শপথ শয়তানের পক্ষ হতেই হয়েছিল। অতঃপর তিনি আরও লুক্মা মুখে দিলেন এবং অবশিষ্ট খাবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে নিয়ে গেলেন। ভোর পর্যন্ত সে খাদ্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছেই ছিল। এদিকে আমাদের ও অন্য একটি গোত্রের মাঝে যে সন্ধি ছিলো তার সময়সীমা পূর্ণ হয়ে যায়। (এবং তারা মদিনা্য় আসে) আমরা তাদের বারজনের নেতৃত্বে ভাগ করে দেই। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই কিছু কিছু লোক ছিলো। তবে প্রত্যেকের সঙ্গে কতজন ছিল তা আল্লাহ্ই জানেন। তারা সকলেই সেই খাদ্য হতে আহার করেন। (রাবী বলেন) কিংবা ‘আবদুর রহমান (রাযি.) যেভাবে বর্ণনা করেছেন।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: আযানের সূচনা। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাযি.)
হাদিস নং (৬০৩):
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (জামা’আতে সালাত আদায়ের জন্য) সাহাবা-ই কিরাম (রাযি.) আগুন জ্বালানো অথবা নাকূস বাজানোর কথা আলোচনা করেন। আবার এগুলোকে (যথাক্রমে) ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রথা বলে উল্লেখ করা হয়। অতঃপর বিলাল (রাযি.)-কে আযানের বাক্য দু’বার করে ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের বাক্য বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেয়া হয়।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: আযানের সূচনা। |
বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহ.)
হাদিস নং (৬০৪):
নাফি (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলতেন যে, মুসলিমগণ যখন মদিনা্য় আগমন করেন, তখন তাঁরা সালাতের সময় অনুমান করে সমবেত হতেন। এর জন্য কোন ঘোষণা দেয়া হতো না। একদা তাঁরা এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। কয়েকজন সাহাবী বললেন, নাসারাদের ন্যায় নাকূস বাজানোর ব্যবস্থা করা হোক। আর কয়েকজন বললেন, ইয়াহূদীদের শিঙ্গার ন্যায় শিঙ্গা ফোঁকানোর ব্যবস্থা করা হোক। ‘উমার (রাযি.) বললেন, সালাতের ঘোষণা দেয়ার জন্য তোমরা কি একজন লোক পাঠাতে পার না? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে বিলাল, উঠ এবং সালাতের জন্য ঘোষণা দাও।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: দু’ দু’বার আযানের শব্দ বলা। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাযি.)
হাদিস নং (৬০৫):
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযি.)-কে আযানের শব্দ দু’ দু’বার এবং قَدْقَامَتِ الصَّلاَةُ ব্যতীত ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের শব্দগুলো বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: দু’ দু’বার আযানের শব্দ বলা। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
হাদিস নং (৬০৬):
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; মুসলিমগণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তাঁরা সালাতের সময়ের জন্য এমন কোন সংকেত নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিলেন, যার সাহায্যে সালাতের সময় উপস্থিত এ কথা বুঝা যায়। কেউ কেউ বললেন, আগুন জ্বালানো হোক, কিংবা ঘণ্টা বাজানো হোক। তখন বিলাল (রাযি.)-কে আযানের শব্দগুলো দু’ দু’বার এবং ইকামাতের শব্দগুলো বেজোড় বলার নির্দেশ দেয়া হলো।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: ‘‘কাদ কামাতিস্-সালাহ’’ ব্যতীত ইক্বামাতের শব্দগুলো একবার করে বলা। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাযি.)
হাদিস নং (৬০৭):
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযি.)-কে আযানের বাক্যগুলো দু’ দু’বার এবং ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের বাক্যগুলো বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেয়া হয়। ইসমাঈল (রহ.) বলেন, আমি এ হাদীস আইয়ূবের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, তবে ‘কাদ্কামাতিস্ সালাতু’ ছাড়া।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: আযানের মর্যাদা। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৬০৮):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সালাতের জন্য আযান দেয়া হয়, তখন শয়তান হাওয়া ছেড়ে পলায়ন করে, যাতে সে আযানের শব্দ না শোনে। যখন আযান শেষ হয়ে যায়, তখন সে আবার ফিরে আসে। আবার যখন সালাতের জন্য ইক্বামাত(ইকামত/একামত) বলা হয়, তখন আবার দূরে সরে যায়। ইক্বামাত(ইকামত/একামত) শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে এসে লোকের মনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং বলে এটা স্মরণ কর, ওটা স্মরণ কর, বিস্মৃত বিষয়গুলো সে মনে করিয়ে দেয়। এভাবে লোকটি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, সে কয় রাক‘আত সালাত আদায় করেছে তা মনে করতে পারে না।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: আযানের আওয়াজ উচ্চ করা। |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু আবদুর রহমান আনসারী মাযিনী (রহ.)
হাদিস নং (৬০৯):
’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আবদুর রহমান আনসারী মাযিনী (রহ.) হতে বর্ণিত তাকে তার পিতা সংবাদ দিয়েছেন যে, আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাযি.) তাঁকে বললেন, আমি দেখছি তুমি বক্রী চরানো এবং বন-জঙ্গলকে ভালোবাস। তাই তুমি যখন বক্রী নিয়ে থাক, বা বন-জঙ্গলে থাক এবং সালাতের জন্য আযান দাও, তখন উচ্চকন্ঠে আযান দাও। কেননা, জিন্, ইনসান বা যে কোন বস্তুই যতদূর পর্যন্ত মুয়ায্যিনের আওয়ায শুনবে, সে কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। আবূ সায়ীদ (রাযি.) বলেন, একথা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট শুনেছি।
|
অধ্যায়: আযান |
উপ-অধ্যায়: আযানের কারণে রক্তপাত হতে নিরাপত্তা পাওয়া। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাযি.)
হাদিস নং (৬১০):
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই আমাদের নিয়ে কোনো গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যেতেন, ভোর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করতেন না বরং লক্ষ্য রাখতেন, যদি তিনি আযান শুনতে পেতেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হতে বিরত থাকতেন। আর যদি আযান শুনতে না পেতেন, তাহলে অভিযান চালাতেন। আনাস (রাযি.) বলেন, আমরা খায়বারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম এবং রাতের বেলায় তাদের সেখানে পৌঁছলাম। যখন প্রভাত হলো এবং তিনি আযান শুনতে পেলেন না; তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হলেন। আমি আবূ তালহা (রাযি.)-এর পিছনে সওয়ার হলাম। আমার পা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পায়ের সাথে লেগে যাচ্ছিল। আনাস (রাযি.) বলেন, তারা তাদের থলে ও কোদাল নিয়ে বেরিয়ে আমাদের দিকে আসলো। হঠাৎ তারা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেলো, তখন বলে উঠল, ‘এ যে মুহাম্মাদ, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ তাঁর পঞ্চ বাহিনী সহ!’ আনাস (রাযি.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দেখে বলে উঠলেনঃ ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, খায়বার ধ্বংস হোক। আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিণায় অবতরণ করি, তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত হয় মন্দ।’
|