তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: সালাতের সময়সমূহ | উপ-অধ্যায়: ফজরের পর সূর্য উঠার পূর্বে সালাত আদায়। | বর্ণনাকারী: ইবনু আব্বাস (রাযি.)
হাদিস নং (৫৮১): ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েকজন আস্থাভাজন ব্যক্তি- যাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন ‘উমার (রাযি.) আমাকে বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পর সূর্য উজ্জ্বল হয়ে না উঠা পর্যন্ত এবং ‘আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট কয়েক ব্যক্তি এরূপ বর্ণনা করেছেন।
অধ্যায়: সালাতের সময়সমূহ | উপ-অধ্যায়: ফজরের পর সূর্য উঠার পূর্বে সালাত আদায়। | বর্ণনাকারী: ইবনু উমার (রাযি.)
হাদিস নং (৫৮২): ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায়ের ইচ্ছা করো না।
অধ্যায়: সালাতের সময়সমূহ | উপ-অধ্যায়: ফজরের পর সূর্য উঠার পূর্বে সালাত আদায়। | বর্ণনাকারী: ইবনু উমার (রাযি.)
হাদিস নং (৫৮৩): ইবনু ‘উমার (রাযি.) আমাকে আরও বলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি সূর্যের একাংশ প্রকাশ পেয়ে যায়, তাহলে পূর্ণরূপে উদিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায়ে দেরি করো। আর যদি তার একাংশ ডুবে যায় তাহলে সম্পূর্ণরূপে অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায়ে দেরি করো। ‘আবদাহও এ রকমই বর্ণনা করেছেন।
অধ্যায়: সালাতের সময়সমূহ | উপ-অধ্যায়: ফজরের পর সূর্য উঠার পূর্বে সালাত আদায়। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৫৮৪): আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ধরনের বেচা-কেনা করতে, দু’ভাবে পোষাক পরিধান করতে এবং দু’সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ফজরের পর সূর্য পূর্ণরূপে উদিত না হওয়া পর্যন্ত এবং ‘আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আর পুরো শরীর জড়িয়ে কাপড় পরতে এবং এক কাপড়ে (যেমন লুঙ্গি ইত্যাদি পরে) হাঁটু খাড়া করে এমনভাবে বসতে নিষেধ করেছেন যাতে লজ্জাস্থান উপরের দিকে খুলে যায়। আর মুনাবাযাহ ও মুলামাসাহ (এর পন্থায় বেচা-কেনা) নিষেধ করেছেন।
অধ্যায়: সালাতের সময়সমূহ | উপ-অধ্যায়: সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্তে সালাত আদায়ের উদ্যোগ নিবে না। | বর্ণনাকারী: ইবনু উমার (রাযি.)
হাদিস নং (৫৮৫): ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায়ের উদ্যোগ না নেয়।
অধ্যায়: সালাতের সময়সমূহ | উপ-অধ্যায়: সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্তে সালাত আদায়ের উদ্যোগ নিবে না। | বর্ণনাকারী: আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)
হাদিস নং (৫৮৬): আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, ফজরের পর সূর্য উদিত হয়ে (একটু) উপরে না উঠা পর্যন্ত এবং ‘আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নেই।
অধ্যায়: সালাতের সময়সমূহ | উপ-অধ্যায়: সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্তে সালাত আদায়ের উদ্যোগ নিবে না। | বর্ণনাকারী: মুআবিয়াহ (রাযি.)
হাদিস নং (৫৮৭): মু‘আবিয়াহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা এমন এক সালাত আদায় করে থাক-রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহচর্য লাভ করা সত্ত্বেও আমরা তাঁকে কখনও তা আদায় করতে দেখিনি। বরং তিনি তা হতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ ‘আসরের পর দু’রাক‘আত।
অধ্যায়: সালাতের সময়সমূহ | উপ-অধ্যায়: সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্তে সালাত আদায়ের উদ্যোগ নিবে না। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৫৮৮): আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ফজরের পর সূর্য উঠা পর্যন্ত এবং ‘আসরের পর সূর্য ডুবা পর্যন্ত।
অধ্যায়: সালাতের সময়সমূহ | উপ-অধ্যায়: যিনি আসরের ও ফজরের পর ছাড়া অন্য সময়ে সালাত আদায় মাকরূহ মনে করেন না। | বর্ণনাকারী: ইবনু উমার (রাযি.)
হাদিস নং (৫৮৯): ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার সাথীদের যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি সেভাবেই আমি সালাত আদায় করি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে সালাতের ইচ্ছা করা ভিন্ন রাতে বা দিনে যে কোনো সময়ে কেউ সালাত আদায় করতে চাইলে আমি নিষেধ করি না।
অধ্যায়: সালাতের সময়সমূহ | উপ-অধ্যায়: আসরের পর কাযা বা অনুরূপ কোন সালাত আদায় করা। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৫৯০): আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সে মহান সত্তার শপথ, যিনি তাঁকে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে) উঠিয়ে নিয়েছেন, আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি দু’রাক‘আত সালাত কখনই ছাড়েননি। আর সালাতে দাঁড়ানো যখন তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি, তখনই তিনি আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন। তিনি তাঁর এ সালাত অধিকাংশ সময় বসে বসেই আদায় করতেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) এ সালাত দ্বারা ‘আসরের পরবর্তী দু’রাক‘আতের কথা বুঝিয়েছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, তবে উম্মাতের উপর বোঝা হয়ে পড়ার আশংকায় তা মসজিদে আদায় করতেন না। কেননা, উম্মাতের জন্য যা সহজ হয় তাই তাঁর কাম্য ছিল।