তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: কারো দিকে মুখ করে সালাত আদায়। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাযি.)
হাদিস নং (৫১১): আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। একবার তাঁর সামনে সালাত নষ্টকারী জিনিসের আলোচনা করা হল। লোকেরা বললোঃ কুকুর, গাধা ও মহিলা সালাত নষ্ট করে দেয়। ’আয়িশাহ (রাযি.) বললেনঃ তোমরা আমাদেরকে কুকুরের সমান করে দিয়েছ! আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, সালাত আদায় করছেন আর আমি তাঁর ও কিবলাহর মাঝে চৌকির উপর কাত হয়ে শুয়ে থাকতাম। কোন কোন সময় আমার বের হবার দরকার হতো এবং তাঁর সামনের দিকে যাওয়া অপছন্দ করতাম। এজন্যে আমি চুপে চুপে সরে পড়তাম। আ’মাশ (রহ.) ’আয়িশাহ (রাযি.) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: ঘুমন্ত ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায়। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাযি.)
হাদিস নং (৫১২): আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন আর আমি তখন তাঁর বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। বিত্র পড়ার সময় তিনি আমাকেও জাগাতেন, তখন আমিও বিত্র পড়তাম।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: মহিলার পেছনে থেকে নফল সালাত আদায়। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাযি.)
হাদিস নং (৫১৩): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে শুয়ে থাকতাম আর আমার পা দু’টো থাকত তাঁর কিবলার দিকে। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন আমাকে টোকা দিতেন, আর আমি আমার পা সরিয়ে নিতাম। তিনি দাঁড়িয়ে গেলে পুনরায় পা দু’টো প্রসারিত করে দিতাম।‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেনঃ তখন ঘরে কোন বাতি ছিল না।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: কোন কিছু সালাত নষ্ট করে না বলে যিনি মত পোষণ করেন। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাযি.)
হাদিস নং (৫১৪): আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তাঁর সামনে সালাত নষ্টকারী কুকুর, গাধা ও নারী সম্বন্ধে আলোচনা চলছিল।‘আয়িশাহ (রাযি.) বললেনঃ তোমরা আমাদেরকে গাধা ও কুকুরের সাথে তুলনা করছ? আল্লাহর কসম! আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তখন আমি চৌকির উপরে তাঁর ও কিবলাহর মাঝখানে শুয়ে ছিলাম। আমার প্রয়োজন হলে আমি তার সামনে বসা খারাপ মনে করতাম। তাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কষ্ট হতে পারে। আমি তাঁর পায়ের পাশ দিয়ে চুপিসারে বের হয়ে যেতাম।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: কোন কিছু সালাত নষ্ট করে না বলে যিনি মত পোষণ করেন। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৫১৫): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে উঠে সালাতে দাঁড়াতেন আর আমি তাঁর ও কিবলাহর মাঝখানে আড়াআড়িভাবে তাঁর পরিজনদের বিছানায় শুয়ে থাকতাম।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: সালাতে নিজের ঘাড়ে কোন ছোট মেয়েকে তুলে নেয়া। | বর্ণনাকারী: আবূ কাতাদাহ্ আনসারী (রাযি.)
হাদিস নং (৫১৬): আবূ কাতাদাহ্ আনসারী (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মেয়ে যয়নবের গর্ভজাত ও আবুল আস ইবনু রাবী‘আহ ইবনু ‘আবদ শামস (রহ.)-এর ঔরসজাত কন্যা উমামাহ (রাযি.)-কে কাঁধে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি যখন সিজদায় যেতেন তখন তাকে রেখে দিতেন আর যখন দাঁড়াতেন তখন তাকে তুলে নিতেন।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: এমন বিছানা সামনে রেখে সালাত আদায় করা যাতে ঋতুমতী মহিলা রয়েছে। | বর্ণনাকারী: মাইমূনাহ বিনতু হারিস (রাযি.)
হাদিস নং (৫১৭): মাইমূনাহ বিনতু হারিস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার বিছানা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুসাল্লার বরাবর ছিল। আর আমি আমার বিছানায় থাকা অবস্থায় কোন কোন সময় তাঁর কাপড় আমার গায়ের উপর এসে পড়তো।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: এমন বিছানা সামনে রেখে সালাত আদায় করা যাতে ঋতুমতী মহিলা রয়েছে। | বর্ণনাকারী: মাইমূনাহ (রাযি.)
হাদিস নং (৫১৮): মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতেন আর আমি তাঁর পাশে শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন তাঁর কাপড় আমার গায়ের উপর পড়তো। সে সময় আমি ঋতুমতী ছিলাম।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: সিজদার সুবিধার্থে নিজ স্ত্রীকে সিজদার সময় স্পর্শ করা। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাযি.)
হাদিস নং (৫১৯): ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা আমাদেরকে কুকুর ও গাধার সমান করে বড়ই খারাপ করেছ। অথচ আমি নিজেকে এ অবস্থায় দেখেছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ের সময় আমি তাঁর ও কিবলাহর মাঝখানে শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন সিজদা করার ইচ্ছা করতেন তখন আমার পা দু’টোতে টোকা মারতেন আর আমি আমার পা গুটিয়ে নিতাম।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: মুসল্লীর দেহ হতে মহিলা কর্তৃক অপবিত্রতা পরিষ্কার করা। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.)
হাদিস নং (৫২০): আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বার নিকটে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আর কুরাইশের একদল তাদের মাজলিসে উপবিষ্ট ছিল। তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বললঃ তোমরা কি এই রিয়াকারকে লক্ষ করছ না? তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে অমুক গোত্রের উট যবেহ করার স্থান পর্যন্ত যেতে পার? সেখান হতে গোবর, রক্ত ও নাড়িভুড়ি নিয়ে এসে অপেক্ষা করবে। যখন তিনি সাজদায় যাবেন, তখন এগুলো তার দুই কাঁধের মাঝখানে রেখে দিবে। এ কাজের জন্য তাদের চরম দুর্ভাগা ব্যক্তি (’উক্ববাহ ইবনু আবূ মু’আইত) উঠে দাঁড়াল (এবং তা নিয়ে আসলো)। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাজদায় গেলেন তখন সে তাঁর দু’কাঁধের মাঝখানে সেগুলো রেখে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্য় স্থির রয়ে গেলেন। এতে তারা পরস্পর হাসাহাসি করতে লাগলো। এমনকি হাসতে হাসতে একজন আরেকজনের গায়ের উপর লুটোপুটি করতে লাগল। (এ অবস্থা দেখে) এক ব্যক্তি ফাতিমাহ (রাযি.)-এর নিকট গেলেন। তখন তিনি ছিলেন ছোট বালিকা। তিনি দৌড়ে চলে এলেন। তখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা্য় স্থির ছিলেন। অবশেষে তিনি [ফাতিমাহ (রাযি.)] সেগুলো তাঁর উপর হতে ফেলে দিলেন এবং মুশরিকদের লক্ষ্য করে তিরস্কার করতে লাগলেন। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন তখন তিনি বললেনঃ ’’হে আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর। ’’ হে আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর।’’ ’’আল্লাহ! তুমি কুরাইশদের ধ্বংস কর।’’ অতঃপর তিনি নাম নিয়ে বললেন, ’’হে আল্লাহ! তুমি ’আমার ইবনু হিশাম, ’উত্বাহ ইবনু রাবী’আহ, শায়বাহ ইবনু রাবী’আহ, ওয়ালীদ ইবনু ’উত্বাহ, উমায়্যাহ ইবনু খালাফ, ’উকবাহ ইবনু আবূ মু’আইত এবং ’উমারাহ ইবনু ওয়ালীদকে ধ্বংস কর।’’ ’আবদুল্লাহ [ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.)] বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি এদের সকলকেই বদরের দিন নিহত লাশ হয়ে পড়ে থাকতে দেখেছি। অতঃপর তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে বাদ্র কূপে নিক্ষেপ করা হয়। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ এই কুয়াবাসীদের উপর চিরস্থায়ী অভিসম্পাত।