তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: মসজিদে পুরুষদের নিদ্রা যাওয়া। | বর্ণনাকারী: সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.)
হাদিস নং (৪৪১): সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাহ (রাযি.)-এর গৃহে এলেন, কিন্তু ‘আলী (রাযি.)-কে ঘরে পেলেন না। তিনি ফাতিমাহ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার চাচাত ভাই কোথায়? তিনি বললেনঃ আমার ও তাঁর মধ্যে বাদানুবাদ হওয়ায় তিনি আমার সাথে রাগ করে বাইরে চলে গেছেন। আমার নিকট দুপুরের বিশ্রামও করেননি। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেনঃ দেখ তো সে কোথায়? সে ব্যক্তি খুঁজে এসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল, তিনি মসজিদে শুয়ে আছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন, তখন ‘আলী (রাযি.) কাত হয়ে শুয়ে ছিলেন। তাঁর শরীরের এক পাশের চাদর পড়ে গিয়েছে এবং তাঁর শরীরে মাটি লেগেছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শরীরের মাটি ঝেড়ে দিতে দিতে বললেনঃ উঠ, হে আবূ তুরাব! উঠ, হে আবূ তুরাব! (আবূ তুরাবঃ আলী (রা.) এর উপাধি)
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: মসজিদে পুরুষদের নিদ্রা যাওয়া। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৪৪২): আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সত্তরজন আসহাবে সুফফাকে দেখেছি, তাঁদের কারো গায়ে বড় চাদর ছিল না। হয়ত ছিল কেবল লুঙ্গি কিংবা ছোট চাদর, যা তাঁরা ঘাড়ে বেঁধে রাখতেন। (নীচের দিকে) কারো নিস্ফে সাক বা হাঁটু পর্যন্ত আর কারো টাখনু পর্যন্ত ছিল। তাঁরা লজ্জাস্থান দেখা যাবার ভয়ে কাপড় হাত দিয়ে ধরে রাখতেন।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: সফর হতে ফিরে আসার পর সালাত আদায়। | বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযি.)
হাদিস নং (৪৪৩): জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসলাম। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। রাবী মিস’আর (রাযি.) বলেনঃ আমার মনে পড়ে রাবী মুহারিব (রহ.) চাশতের সময়ের কথা বলেছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি দু’ রাক’আত সালাত আদায় কর। জাবির (রাযি.) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আমার কিছু পাওনা ছিল। তিনি তা আদায় করে দিলেন বরং কিছু বেশী দিলেন।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার পূর্বে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে নেয়। | বর্ণনাকারী: আবূ কাতাদাহ্ সালামী (রাযি.)
হাদিস নং (৪৪৪): আবূ কাতাদাহ্ সালামী (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার পূর্বে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে নেয়।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: মসজিদে হাদাস হওয়া (উযূ নষ্ট হওয়া)। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৪৪৫): আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে সালাতের পরে হাদাসের পূর্ব পর্যন্ত যেখানে সে সালাত আদায় করেছে সেখানে যতক্ষণ বসে থাকে ততক্ষণ মালাকগণ তার জন্যে দু‘আ করতে থাকেন। তাঁরা বলেনঃ হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা কর। হে আল্লাহ! তার উপর রহম কর।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: মাসজিদ নির্মাণ। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.)
হাদিস নং (৪৪৬): আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে মাসজিদ তৈরি হয় কাঁচা ইট দিয়ে, তার ছাদ ছিল খেজুরের ডালের, খুঁটি ছিল খেজুর গাছের। আবূ বকর (রাযি.) এতে কিছু বাড়ান নি। অবশ্য ’উমার (রাযি.) বাড়িয়েছেন। আর তার ভিত্তি তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে যে ভিত্তি ছিল তার উপর কাঁচা ইট ও খেজুরের ডাল দিয়ে নির্মাণ করেন এবং তিনি খুঁটিগুলো পরিবর্তন করে কাঠের (খুঁটি) লাগান। অতঃপর ’উসমান (রাযি.) তাতে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অনেক বৃদ্ধি করেন। তিনি দেয়াল তৈরি করেন নক্শী পাথর ও চুন-সুরকি দিয়ে। খুঁটিও দেন নক্শা করা পাথরের, আর ছাদ বানিয়েছিলেন সেগুন কাঠের।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: মাসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা। | বর্ণনাকারী: ইকরিমাহ (রহ.)
হাদিস নং (৪৪৭): ইকরিমাহ (রহ.) বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) আমাকে ও তাঁর ছেলে ‘আলী (রহ.)-কে বললেনঃ তোমরা উভয়ই আবূ সা‘ঈদ (রাযি.)-এর নিকট যাও এবং তাঁর হতে হাদীস শুনে আস। আমরা গেলাম। তখন তিনি এক বাগানে কাজ করছেন। তিনি আমাদেরকে দেখে চাদরে হাঁটু মুড়ি দিয়ে বসলেন এবং পরে হাদীস বর্ণনা শুরু করলেন। শেষ পর্যায়ে তিনি মসজিদে নাববী নির্মাণ আলোচনায় আসলেন। তিনি বললেনঃ আমরা একটা একটা করে কাঁচা ইট বহন করছিলাম আর ‘আম্মার (রাযি.) দু’টো দুটো করে কাঁচা ইট বহন করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে তাঁর দেহ হতে মাটি ঝাড়তে লাগলেন এবং বলতে লাগলেনঃ ‘আম্মারের জন্য আফসোস, তাকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে। সে তাদেরকে আহবান করবে জান্নাতের দিকে আর তারা তাকে আহবান করবে জাহান্নামের দিকে। আবূ সা‘ঈদ (রাযি.) বলেনঃ তখন ‘আম্মার (রাযি.) বললেনঃ ‘‘আমি ফিতনাহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।’’
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: কাঠের মিম্বার তৈরি ও মাসজিদ নির্মাণে কাঠমিস্ত্রী ও রাজমিস্ত্রীর সাহায্য গ্রহণ। | বর্ণনাকারী: সাহাল (রাযি.)
হাদিস নং (৪৪৮): সাহাল (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈকা মহিলার নিকট লোক পাঠিয়ে বললেনঃ তুমি তোমার গোলাম কাঠমিস্ত্রীকে বল, সে যেন আমার জন্য কাঠের মিম্বার বানিয়ে দেয় যাতে আমি বসতে পারি।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: কাঠের মিম্বার তৈরি ও মাসজিদ নির্মাণে কাঠমিস্ত্রী ও রাজমিস্ত্রীর সাহায্য গ্রহণ। | বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)
হাদিস নং (৪৪৯): জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। জনৈকা মহিলা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার বসার জন্যে কিছু তৈরি করে দিব? আমার এক কাঠমিস্ত্রী গোলাম আছে। তিনি বললেনঃ তোমার ইচ্ছে হলে সে যেন একটি মিম্বার বানিয়ে দেয়।
অধ্যায়: সালাত | উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি মাসজিদ নির্মাণ করে। | বর্ণনাকারী: উবাইদুল্লাহ খাওলানী (রহ.)
হাদিস নং (৪৫০): উবাইদুল্লাহ খাওলানী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘উসমান ইবনু ‘আফ্ফান (রাযি.)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি যখন মসজিদে নাববী নির্মাণ করেছিলেন তখন লোকজনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেছিলেনঃ তোমরা আমার উপর অনেক বাড়াবাড়ি করছ অথচ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মাসজিদ নির্মাণ করে, বুকায়র (রহ.) বলেনঃ আমার মনে হয় রাবী ‘আসিম (রহ.) তাঁর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্যে জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরি করে দেবেন।