অধ্যায়: আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ)-কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৫১):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কা‘বা ঘরে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি ইবরাহীম (আঃ) ও মারইয়ামের ছবি দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, তাদের কী হল? অথচ তারা তো শুনতে পেয়েছে, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকবে, সে ঘরে ফেরেশতামন্ডলী প্রবেশ করেন না। এ যে ইবরাহীমের ছবি বানানো হয়েছে, (ভাগ্য নির্ধারক অবস্থায়) তিনি কেন ভাগ্য নির্ধারক তীর নিক্ষেপ করবেন!
|
অধ্যায়: আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ)-কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৫২):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কা‘বা ঘরে ছবিগুলো দেখতে পেলেন, তখন যে পর্যন্ত তাঁর নির্দেশে তা মিটিয়ে ফেলা না হলো, সে পর্যন্ত তিনি তাতে প্রবেশ করলেন না। আর তিনি দেখতে পেলেন, ইবরাহীম এবং ইসমাঈল (আঃ)-এর হাতে ভাগ্য নির্ধারণের তীর। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তাদের (কুরাইশদের) উপর লা‘নত করুন। আল্লাহর কসম, এরা দু’জন কক্ষনোও ভাগ্য নির্ধারক তীর নিক্ষেপ করেননি।
|
অধ্যায়: আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ)-কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৫৩):
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মাঝে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে অধিক মুত্তাকী। তখন তারা বলল, আমরা তো আপনাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, তা হলে আল্লাহর নবী ইউসুফ, যিনি আল্লাহর নবী’র পুত্র, আল্লাহর নবী’র পৌত্র এবং আল্লাহর খলীল-এর প্রপৌত্র। তারা বলল, আমরা আপনাকে এ ব্যাপারেও জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, তা হলে কি তোমরা আরবের মূল্যবান গোত্রসমূহ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করেছ? জাহিলী যুগে তাদের মধ্যে যারা সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন, ইসলামেও তাঁরা সর্বোত্তম ব্যক্তি যদি তাঁরা ইসলাম সম্পর্কিত জ্ঞানার্জন করেন। আবূ উসামাহ ও মু‘তামির (রহ.) ......... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত।
|
অধ্যায়: আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ)-কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন |
বর্ণনাকারী: সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৫৪):
সামূরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আজ রাতে (স্বপ্নে) আমার নিকট দু’জন লোক আসলেন। অতঃপর আমরা এক দীর্ঘদেহ বিশিষ্ট লোকের নিকট আসলাম। তাঁর দেহ দীর্ঘ হবার দরুন আমি তাঁর মাথা দেখতে পাচ্ছিলাম না। আসলে তিনি হলেন ইবরাহীম (আঃ)।
|
অধ্যায়: আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ)-কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন |
বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৫৫):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, লোকজন তাঁর সামনে দাজ্জালের কথা উল্লেখ করেছেন। তার দু’ চোখের মাঝখানে অর্থাৎ কপালে লেখা থাকবে কাফির বা কাফ, ফা, রা। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেনি। বরং তিনি বলেছেন, যদি তোমরা ইবরাহীম (আঃ)-কে দেখতে চাও তবে তোমাদের সাথীর দিকে তাকাও। আর মূসা (আঃ) হলেন কোঁকড়ানো চুল, তামাটে রং-এর দেহ বিশিষ্ট। তিনি এমন একটি লাল উটের উপর বসে আছেন, যার নাকের দড়ি খেজুর গাছের ছাল দিয়ে তৈরী। আমি যেন তাকে দেখতে পাচ্ছি, তিনি আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিতে দিতে উপত্যকায় নামছেন।
|
অধ্যায়: আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ)-কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৫৬):
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নবী ইবরাহীম (আঃ) সূত্রধরদের অস্ত্র দিয়ে নিজের খাতনা করেছিলেন যখন তার বয়স ছিল আশি বছর। আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক (রহ.) আবূ যিনাদ (রহ.) থেকে হাদীস বর্ণনায় মুগীরাহ ইবনু ‘আব্দুর রহমান (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। ‘আজলান (রহ.) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় আরজ (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। আর মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর (রহ.) আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
|
অধ্যায়: আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ)-কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৫৭):
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবরাহীম (আঃ) তিনবার ব্যতীত কখনও মিথ্যা বলেননি।
|
অধ্যায়: আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ)-কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৫৮):
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবরাহীম (আঃ) তিনবার ছাড়া কখনও মিথ্যা বলেননি। তন্মধ্যে দু’বার ছিল আল্লাহর ব্যাপারে। তার উক্তি ‘‘আমি অসুস্থ’’- (আস্সাফফাতঃ ৮৯) এবং তাঁর অন্য এক উক্তি ‘‘বরং এ কাজ করেছে, এই তো তাদের বড়টি- (আম্বিয়াঃ ৬৩)। বর্ণনাকারী বলেন, একদা তিনি [ইবরাহীম (আঃ)] এবং সারা অত্যাচারী শাসকগণের কোন এক শাসকের এলাকায় এসে পৌঁছলেন। তখন তাকে খবর দেয়া হল যে, এ এলাকায় জনৈক ব্যক্তি এসেছে। তার সঙ্গে একজন সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা আছে। তখন সে তাঁর নিকট লোক পাঠাল। সে তাঁকে নারীটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল, এ নারীটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, মহিলাটি আমার বোন। অতঃপর তিনি সারার নিকট আসলেন এবং বললেন, হে সারা! তুমি আর আমি ব্যতীত পৃথিবীর উপর আর কোন মু’মিন নেই। এ লোকটি আমাকে তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল। তখন আমি তাকে জানিয়েছি যে, তুমি আমার বোন। কাজেই তুমি আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। অতঃপর সারাকে আনার জন্য লোক পাঠালো। তিনি যখন তার নিকট প্রবেশ করলেন এবং রাজা তাঁর দিকে হাত বাড়ালো তখনই সে পাকড়াও হল। তখন অত্যাচারী রাজা সারাকে বলল, আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ কর, আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। তখন সারা আল্লাহর নিকট দু‘আ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। অতঃপর দ্বিতীয়বার তাঁকে ধরতে চাইল। এবার সে পূর্বের মত বা তার চেয়ে কঠিনভাবে পাকড়াও হলে। এবারও সে বলল, আল্লাহর নিকট আমার জন্য দু‘আ কর। আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। আবারও তিনি দু‘আ করলেন, ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। অতঃপর রাজা তার এক দারোয়ানকে ডাকল। সে তাকে বলল, তুমি তো আমার নিকট কোন মানুষ আননি। বরং এনেছ এক শয়তান। অতঃপর রাজা সারার খিদমতের জন্য হাযেরাকে দান করল। অতঃপর তিনি (সারা) তাঁর (ইবরাহীম) নিকট আসলেন, তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তখন তিনি হাত দ্বারা ইশারা করে সারাকে বললেন, কী ঘটেছে? তখন সারা বললেন, আল্লাহ কাফির বা ফাসিকের চক্রান্ত তারই বুকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর সে হাযেরাকে খিদমতের জন্য দান করেছে। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, হে আকাশের পানির ছেলেরা *! হাযেরাই তোমাদের আদি মাতা।
|
অধ্যায়: আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ)-কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন |
বর্ণনাকারী: উম্মু শারীক (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৫৯):
উম্মু শারীক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিরগিটি মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, ওটা ইবরাহীম (আঃ) যে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তাতে এ গিরগিটি ফুঁ দিয়েছিল।
|
অধ্যায়: আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ)-কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন |
বর্ণনাকারী: উম্মু শারীক (রাঃ)
হাদিস নং (৩৩৬০):
আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলূষিত করেনি- (আল-আন্‘আম ৮২)। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে নিজের উপর জুলুম করেনি? তিনি বললেন, তোমরা যা বলছ ব্যাপারটি তা নয়। বরং তাদের ঈমানকে ‘জুলুম’ অর্থাৎ শির্ক দ্বারা কলূষিত করেনি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি? তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, ‘‘হে বৎস! আল্লাহর সঙ্গে কোন রকম শির্ক করো না। নিশ্চয় শির্ক একটা বিরাট জুলুম।’’ (লুকমানঃ ১৩)
|