তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি ফার্সী কিংবা কোন অনারবী ভাষায় কথা বলে। | বর্ণনাকারী: উম্মু খালিদ বিনতে খালিদ ইবনু সা‘ঈদ (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৭১): উম্মু খালিদ বিনতে খালিদ ইবনু সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে হলুদ বর্ণের জামা পরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সান্না-সান্না। (রাবী) ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, হাবশী ভাষায় তা ‘সুন্দর’ অর্থ বুঝায়। উম্মু খালিদ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি তাঁর মহরে নবুয়্যতের স্থান নিয়ে কৌতুক করতে লাগলাম। আমার পিতা আমাকে ধমক দিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘ছোট মেয়ে তাকে করতে দাও।’ অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, এ কাপড় পর আর পুরানো কর, আবার পর, পুরানো কর, আবার পর, পুরানো কর। ‘আবদুল্লাহ্ (ইবনু মুবারক) (রহ.) বলেন, উম্মু খালিদ (রাঃ) যতদিন জীবিত থাকেন, তাঁর আলোচনা চলতে থাকে।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: যে ব্যক্তি ফার্সী কিংবা কোন অনারবী ভাষায় কথা বলে। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৭২): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হাসান ইবনু ’আলী (রাঃ) সাদাকার খেজুর হতে একটি খেজুর নিয়ে তা তাঁর মুখে দেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাখ্-খাখ্ বললেন, তুমি কি জানো না যে, আমরা সদা্কাহ খাই না।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: গনীমতের মালামাল আত্মসাৎ করা। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৭৩): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ান এবং গানীমাতের মাল আত্মসাৎ প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। আর তিনি তা মারাত্মক অপরাধ ও তার ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের কাউকে যেন এ অবস্থায় কিয়ামতের দিন না পাই যে, তাঁর কাঁধে বকরি বয়ে বেড়াচ্ছে আর তা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে চিৎকার দিচ্ছে। অথবা তাঁর কাঁধে রয়েছে ঘোড়া আর তা হি হি করে আওয়াজ দিচ্ছে। ঐ ব্যক্তি আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না। আমি তো (দুনিয়ায়) তোমার নিকট পৌছে দিয়েছি। অথবা কেউ তার কাঁধে বয়ে বেড়াবে উট যা চিৎকার করছে, সে আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! একটু সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না। আমি তো তোমার নিকট পৌঁছে দিয়েছি। অথবা কেউ তার কাঁধে বয়ে বেড়াবে ধন-দৌলত এবং আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না। আমি তো তোমার নিকট পৌঁছে দিয়েছি। অথবা কেউ তার কাঁধে বয়ে বেড়াবে কাপড়ের টুকরাসমূহ যা দুলতে থাকবে। সে আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারব না; আমি তো তোমার নিকট পৌঁছে দিয়েছি।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: স্বল্প পরিমাণ গানীমাতের মাল আত্মসাৎ করা। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৭৪): ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাহারা দেয়ার জন্য এক ব্যক্তি নিযুক্ত ছিল। তাকে কার্কারা নামে ডাকা হত। সে মারা গেল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে জাহান্নামী! লোকেরা তাকে দেখতে গেল আর তারা একটি আবা পেল যা সে আত্মসাত করেছিল। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, ইবনু সালাম (রহ.) বলেছেন, কারকারা।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: গনীমতের উট ও ছাগল (বণ্টিত হওয়ার পূর্বে) যবহ করা মাকরূহ। | বর্ণনাকারী: রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৭৫): রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে যুল-হুলাইফায় অবস্থান করছিলাম। লোকেরা ক্ষুধার্ত হয়েছিল। আর আমরা গানীমাত স্বরূপ কিছু উট ও বকরী লাভ করেছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের পেছনে সারিতে ছিলেন। লোকেরা তাড়াতাড়ি করে পাতিল চড়িয়ে দিয়েছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন এবং পাতিলগুলো উপুড় করে ফেলে দেয়া হল। অতঃপর তিনি দশটি বকরীকে একটি উটের সমান ধরে তা বণ্টন করে দিলেন। তার নিকট হতে একটি উট পালিয়ে গেল। লোকদের নিকট ঘোড়া কম ছিল। তাঁরা তা অনুসন্ধানে বেরিয়ে গেল এবং তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। অতঃপর এক ব্যক্তি উটটির প্রতি তীর নিক্ষেপ করল, আল্লাহ তা‘আলা তার গতিরোধ করে দিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এ সকল গৃহপালিত জন্তুর মধ্যেও কতক বন্য পশুর মত অবাধ্য হয়ে যায়। সুতরাং যা তোমাদের নিকট হতে পলায়ন করে তার সঙ্গে এরূপ আচরণ করবে।’ রাবী বলেন, আমার দাদা রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) বলেছেন, আমরা আশা করি কিংবা বলেছেন আশঙ্কা করি যে, আমরা আগামীকাল শত্রুর মুখোমুখী হব। আর আমাদের সঙ্গে ছুরি নেই। আমরা কি বাঁশের ধারালো চোকলা দ্বারা যবেহ করব? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে তা আহার কর। কিন্তু দাঁত ও নখ দিয়ে নয়। কারণ আমি বলে দিচ্ছিঃ তা এই যে, দাঁত হল হাড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।’
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান প্রসঙ্গে। | বর্ণনাকারী: জারীর ইবনু আবদুল্লাহ আল বাজলী (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৭৬): জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘তুমি কি যুলখালাসা মন্দিরটিকে ধ্বংস করে আমাকে সান্ত্বনা দিবে না?’ এ ঘরটি খাস‘আম গোত্রের একটি মন্দির ছিল। যাকে ইয়ামানের কা‘বা বলা হতো। অতঃপর আমি আহমাস গোত্রের দেড়শ’ লোক নিয়ে রওয়ানা হলাম। তাঁরা সবাই দক্ষ ঘোড় সওয়ার ছিলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালাম যে, আমি ঘোড়ার উপর স্থির থাকতে পারি না। তখন তিনি আমার বুকে হাত দ্বারা আঘাত করলেন। এমন কি আমি আমার বুকে তাঁর আঙ্গুলের ছাপ দেখতে পেলাম এবং তিনি আমার জন্য দু‘আ করে বললেন, ‘হে আল্লাহ! তাকে ঘোড়ার পিঠে স্থির রাখ এবং তাকে পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্ত করুন।’ অবশেষে জারীর (রাঃ) তথায় গমন করলেন। ঐ মন্দিরটি ভেঙ্গে দিলেন ও জ্বালিয়ে দিলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সুসংবাদ প্রদানের জন্য দূত পাঠালেন। জারীর (রাঃ)-এর দূত রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, সে সত্তার কসম! আমি ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার নিকট আসিনি, যতক্ষণ না আমি তাকে জ্বালিয়ে কাল উটের মত করে ছেড়েছি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহমাস গোত্রের অশ্বারোহী ও পদাতিক লোকদের জন্য পাঁচবার বরকতের দু’আ করলেন। মুসাদ্দাদ (রহ.) বলেন, হাদীসে উল্লেখিত যুলখালাস অর্থ খাস‘আম গোত্রের একটি ঘর।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: (মক্কাহ) বিজয়ের পর হিজরাতের কোন প্রয়োজন নেই। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৭৭): ‘আবদুল্লাহ্ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেন, ‘মক্কা বিজয়ের পর হতে (মক্কা থেকে) হিজরতের প্রয়োজন নেই। কিন্তু জিহাদ ও নেক কাজের নিয়্যাত বাকী আছে আর যখন তোমাদের জিহাদের ডাক দেয়া হবে তখন তোমরা বেরিয়ে পড়বে।’
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: (মক্কাহ) বিজয়ের পর হিজরাতের কোন প্রয়োজন নেই। | বর্ণনাকারী: মুজাশি‘ (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৭৮): মুজাশি‘ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুজাশি‘ তাঁর ভাই মুজালিদ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-কে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, ‘এ মুজালিদ আপনার নিকট হিজরত করার জন্য বাই‘আত করতে চায়। ‘তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘মক্কা জয়ের পর আর হিজরতের দরকার নেই। কাজেই আমি তার নিকট হতে ইসলামের বাই‘আত নিচ্ছি।’
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: (মক্কাহ) বিজয়ের পর হিজরাতের কোন প্রয়োজন নেই। | বর্ণনাকারী: মুজাশি‘ (রাঃ)
হাদিস নং (৩০৭৯): মুজাশি‘ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুজাশি‘ তাঁর ভাই মুজালিদ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-কে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, ‘এ মুজালিদ আপনার নিকট হিজরত করার জন্য বাই‘আত করতে চায়। ‘তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘মক্কা জয়ের পর আর হিজরতের দরকার নেই। কাজেই আমি তার নিকট হতে ইসলামের বাই‘আত নিচ্ছি।’
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: (মক্কাহ) বিজয়ের পর হিজরাতের কোন প্রয়োজন নেই। | বর্ণনাকারী: আতা ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ)
হাদিস নং (৩০৮০): ‘আত্বা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উবাইদ ইবনু ‘উমাইর (রাঃ) সহ ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি সাবীর পাহাড়ের উপর অবস্থান করছিলেন। তিনি আমাদেরকে বললেন, ‘যখন হতে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা বিজয় দান করেছেন, তখন থেকে হিজরত বন্ধ হয়ে গেছে।