তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: মুশরিকদের পরাজিত ও প্রকম্পিত করার দু‘আ। | বর্ণনাকারী: আলী (রাঃ)
হাদিস নং (২৯৩১): আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধের দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করেন, ‘আল্লাহ তাদের (মুশরিকদের) ঘর ও কবর আগুনে পূর্ণ করুন। কেননা তারা মধ্যম সালাত (তথা ‘আসরের সালাত) থেকে আমাদেরকে ব্যস্ত করে রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়।’
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: মুশরিকদের পরাজিত ও প্রকম্পিত করার দু‘আ। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৯৩২): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনূতে নাযিলায় এই দু‘আ করতেন, ‘হে আল্লাহ্! আপনি সালামাহ ইবনু হিশামকে নাজাত দিন। হে আল্লাহ্! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে নাজাত দিন। হে আল্লাহ্! আয়্যাশ ইবনু আবী রাবী‘আ-কে নাজাত দিন। হে আল্লাহ্! দুর্বল মুমিনদের নাজাত দিন। হে আল্লাহ! মুযার গোত্রকে সমূলে উৎপাটিত করুন। হে আল্লাহ! কাফিরদের উপর ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ নাযিল করুন।’
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: মুশরিকদের পরাজিত ও প্রকম্পিত করার দু‘আ। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আওফা (রাঃ)
হাদিস নং (২৯৩৩): আবদুল্লাহ ইবনু আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহযাবের দিনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে মুশরিকদের বিরুদ্ধে দু‘আ করেছিলেন যে, হে কিতাব নাযিলকারী, সত্বর হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ্! হে আল্লাহ্! তাদের সকল দলকে পরাজিত করুন। হে আল্লাহ্! আপনি তাদের পর্যুদস্ত ও প্রকম্পিত করুন।’
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: মুশরিকদের পরাজিত ও প্রকম্পিত করার দু‘আ। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৯৩৪): আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার ছায়ায় সালাত আদায় করছিলেন। তখন আবূ জাহল ও কুরায়েশদের কিছু ব্যক্তি পরামর্শ করে। সেই সময় মক্কার বাইরে একটি উট যবেহ হয়েছিল। কুরায়শরা একজন পাঠিয়ে সেখান থেকে এর ভুঁড়ি নিয়ে এলো এবং তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিঠে ঢেলে দিল। অতঃপর ফাতিমাহ (রাঃ) এসে এটি তাঁর থেকে সরিয়ে দিলেন। এই সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে দু‘আ করেন, হে আল্লাহ্! আপনি কুরায়শদের ধ্বংস করুন। হে আল্লাহ! আপনি কুরায়শদের ধ্বংস করুন। হে আল্লাহ্! আপনি কুরায়শদের ধ্বংস করুন। অর্থাৎ আবূ জাহ্ল, ইবনু হিশাম, উতবা ইবনু রবী‘আহ, শায়বা ইবনু রবীআহ’, ওয়ালীদ ইবনু উতবাহ, ‘উবাই ইবনু খাল্ফ এবং ‘উকবাহ ইবনু আবী মু‘আইত। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি তাদের সকলকে বাদারের একটি পরিত্যক্ত কূয়ায় নিহত দেখেছি। আবূ ইসহাক (রহ.) বলেন, আমি সপ্তম ব্যক্তির নাম ভুলে গিয়েছি। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, ইউসুফ ইবনু ‘‘ইসহাক (রহ.) আবূ ইসহাক (রহ.) সূত্রে উমাইয়া ইবনু খালফ বলেছেন। শু‘বাহ (রহ.) বলেন, উমাইয়া অথবা ‘উবাই। তবে সঠিক হলো উমাইয়াহ।।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: মুশরিকদের পরাজিত ও প্রকম্পিত করার দু‘আ। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৯৩৫): আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা কয়েকজন ইয়াহূদী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসল এবং বলল, তোমার মরণ হোক। ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাদের অভিশাপ দিলেন। তাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হলো? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তারা কী বলেছে, আপনি কি তা শুনেননি? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি বলেছি, ‘তোমাদের উপর’, তা কি তুমি শোননি?
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: কোন মুসলিম কি আহলে কিতাবকে দ্বীনের পথ দেখাবে কিংবা তাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিবে? | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৯৩৬): আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কায়সারের নিকট চিঠি লিখেছিলেন এবং এতে বলেছিলেন, যদি তুমি মুখ ফিরিয়ে রাখ তাহলে প্রজাদের পাপের বোঝা তোমার উপরেই চাপানো হবে।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: মুশরিকদের হিদায়াত ও মন আকর্ষণের জন্য দু‘আ। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৯৩৭): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তুফাইল ইবনু ‘আমর দাওসী ও তাঁর সঙ্গীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! দাওস গোত্রের লোকেরা (ইসলাম গ্রহণে) অবাধ্যতা করেছে ও অস্বীকার করেছে। আপনি তাদের বিরুদ্ধে দু‘আ করুন।’ অতঃপর বলা হলো, দাওস গোত্র ধ্বংস হোক। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি দাওস গোত্রকে হিদায়াত করুন এবং তাদেরকে ইসলামে নিয়ে আসুন।’
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের প্রতি ইসলামের দা’ওয়াত এবং কোন্ অবস্থায় তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা যায়? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কায়সার ও কিসরা-এর নিকট যা লিখেছিলেন এবং যুদ্ধের পূর্বে ইসলামের দাওয়াত দেয়া। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (২৯৩৮): আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোম- সম্রাটের প্রতি লেখার ইচ্ছা করেন তখন তাকে বলা হলো যে, তারা সীল মোহরকৃত পত্র ব্যতীত পাঠ করে না। অতঃপর তিনি রূপার একটি মোহর প্রস্তুত করেন। আমি এখনো যেন তাঁর হাতে এর শুভ্রতা দেখছি। তিনি তাতে অংকিত করেছিলেন, ‘‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’’।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের প্রতি ইসলামের দা’ওয়াত এবং কোন্ অবস্থায় তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা যায়? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কায়সার ও কিসরা-এর নিকট যা লিখেছিলেন এবং যুদ্ধের পূর্বে ইসলামের দাওয়াত দেয়া। | বর্ণনাকারী: আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৯৩৯): আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পত্রসহ কিসরার নিকট দূত পাঠালেন এবং দূতকে নির্দেশ দেন যে, তা যেন বাহরাইনের শাসনকর্তার কাছে দেয়া হয়। পরে বাহরায়নের শাসনকর্তা তা কিসরার নিকট পৌঁছিয়ে দেন। কিসরা যখন তা পড়ল তা ছিঁড়ে টুকরো করে ফেলল। আমার মনে হয়, সা‘ঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহ.) বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাপারে দু‘আ করেন, যেন তাদেরকে একেবারে ছিন্নভিন্ন করে দেয়া হয়।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: ইসলাম ও নবুওয়াতের দিকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহবান আর মানুষ যেন আল্লাহ ব্যতীত তাদের পরস্পরকে রব হিসেবে গ্রহণ না করে। | বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৯৪০): ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কায়সারকে ইসলামের প্রতি আহবান জানিয়ে চিঠি লেখেন এবং দেহইয়া কালবী (রাঃ)-এর মারফত সে চিঠি পাঠান এবং তাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দেন যেন তা বুসরার গভর্নরের নিকট দেয়া হয়, যাতে তিনি তা কায়সারের নিকট পৌঁছিয়ে দেন। আল্লাহ যখন পারস্যের সৈন্য বাহিনীকে কায়সারের এলাকা থেকে হটিয়ে দেন, তখন আল্লাহর অনুগ্রহের এই শুকরিয়া হিসেবে কায়সার হিমস থেকে পায়ে হেঁটে বায়তুল মুকাদ্দাস সফর করেন। এ সময় তাঁর নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিঠি এসে পৌঁছলে তা পাঠ করে তিনি বললেন যে, তাঁর গোত্রের কাউকে খোঁজ কর যাতে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে পারি।