অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: শিরস্ত্রাণ পরিধান। |
বর্ণনাকারী: সাহল (রাঃ)
হাদিস নং (২৯১১):
সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তাকে উহুদের দিনে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আঘাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুখমণ্ডল আহত হল এবং তাঁর সামনের দু’টি দাঁত ভেঙ্গে গেল, তাঁর মাথার শিরস্ত্রান ভেঙ্গে গেল। ফাতেমাহ (আঃ) রক্ত ধুচ্ছিলেন আর ‘আলী (রাঃ) পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। তিনি যখন দেখতে পেলেন যে, রক্ত পড়া বাড়ছেই, তখন একটি চাটাই নিয়ে তা পুড়িয়ে ছাই করলেন এবং তা ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিলেন। অতঃপর রক্ত পড়া বন্ধ হল।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: কারো মৃত্যুকালে তার অস্ত্র বিনষ্ট করা যারা পছন্দ করে না |
বর্ণনাকারী: আমর ইবনু হারিস (রাঃ)
হাদিস নং (২৯১২):
আমর ইবনু হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছুই রেখে যাননি, কেবল তাঁর অস্ত্র, একটি সাদা খচ্চর ও এক টুকরো জমি, যা সাদাকা করে গিয়েছিলেন।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: দুপুরের বিশ্রামকালে ইমাম থেকে তফাতে যাওয়া এবং গাছের ছায়ায় বিশ্রাম গ্রহণ করা। |
বর্ণনাকারী: জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৯১৩):
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে একটি যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন। তাদের দুপুরের বিশ্রামের সময় হল এমন একটি উপত্যকায় যাতে কাঁটাদার প্রচুর বৃক্ষ ছিল। লোকেরা কাঁটাদার বৃক্ষরাজির ছায়ায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ল। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)একটি বৃক্ষের নীচে অবতরণ করেন এবং একটি বৃক্ষে তাঁর তরবারি ঝুলিয়ে সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন। তিনি জেগে উঠলেন এবং হঠাৎ তাঁর পার্শ্বে দেখতে পেলেন যে, জনৈক ব্যক্তি, অথচ তিনি তার ব্যাপারে টের পাননি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এই ব্যক্তিটি হঠাৎ আমার তরবারীটি উঁচিয়ে বলল, কে তোমাকে আমার হাত থেকে রক্ষা করবে? আমি বললাম, আল্লাহ্! তখন সে ব্যক্তি তলোয়ারটি খাপে রেখে দিল। আর এই সে ব্যক্তি, এখনো বসা, কিন্তু তিনি তার প্রতিশোধ নেননি।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: তীর নিক্ষেপ প্রসঙ্গে যা বলা হয়েছে। |
বর্ণনাকারী: আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৯১৪):
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একবার তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলেন। মক্কার পথে কোন এক স্থানে পৌঁছার পর আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) কয়েকজন সঙ্গীসহ তাঁর পেছনে রয়ে গেলেন। সঙ্গীরা ছিলেন ইহরাম অবস্থায় আর তিনি ছিলেন ইহরাম বিহীন। এ সময় তিনি একটি বুনো গাধা দেখতে পান এবং তাঁর ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের তাঁর চাবুকটি উঠিয়ে দিতে বলেন; কিন্তু তারা তা দিতে অস্বীকার করলেন। আবার তিনি তাঁর বর্শাটি উঠিয়ে দিতে বলেন। তারা তাও দিতে অস্বীকার করলেন। তখন তিনি নিজেই তা উঠিয়ে নিলেন। অতঃপর গাধাটির উপর আক্রমণ চালালেন এবং তাকে হত্যা করলেন। সাথীরা কেউ কেউ এর গোশ্ত খেলেন এবং কেউ কেউ তা খেতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট গিয়ে এ সম্পর্কে তাঁর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, এটি একটি আহারের বস্তু, যা আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের আহারের জন্য দিয়েছেন। যায়িদ ইবনু আসলাম (রহ.) আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে আবূ নাযর (রাঃ)-এর মতই বুনো গাধা সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে আছে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের সঙ্গে তার কিছু গোশ্ত আছে কি?
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ম এবং যুদ্ধে ব্যবহৃত তাঁর জামা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৯১৫):
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাদারের দিন একটি গুম্বজওয়ালা তাঁবুতে অবস্থান কালে দু‘আ করছিলেন, হে আল্লাহ্! আমি আপনার প্রতিজ্ঞা ও ওয়াদার দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি যদি চান, তাহলে আজকের পরে আর আপনার ইবাদাত করা হবে না।’ এ সময় আবূ বকর (রাঃ) তাঁর হাত ধরে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যথেষ্ট হয়েছে। আপনি বার বার নত হয়ে আপনার প্রতিপালকের কাছে দু‘আ করেছেন।’ সে সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্ম আচ্ছাদিত ছিলেন। অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করতে করতে বেরিয়ে এলেনঃ শীঘ্রই দুশমনরা পরাস্ত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে তদুপরি কিয়ামত শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং কিয়ামত হবে অধিক কঠিন ও অধিক তিক্ত। (সূরা আল-ক্বামার ৪৫, ৪৬) ওহাইব (রহ.) বলেন, খালিদ (রহ.) বলেছেন, ‘বাদারের দিন’।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ম এবং যুদ্ধে ব্যবহৃত তাঁর জামা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৯১৬):
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৃত্যুর সময় তাঁর বর্মটি ত্রিশ সা’ যব-এর বিনিময়ে এক ইয়াহূদীর নিকট বন্ধক ছিল।
মুআল্লাহ ‘আবদুল ওয়াহিদ (রহ.) সূত্রে আ‘মাশ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর লোহার বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন। আর ইয়ালা (রহ.) আ‘মাশ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, বর্মটি ছিল লোহার।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ম এবং যুদ্ধে ব্যবহৃত তাঁর জামা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৯১৭):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তির উদাহরণ এমন দু’ ব্যক্তির মত, যারা লৌহ বর্মে আচ্ছাদিত। বর্ম দু’টি এত আঁটসাঁট যে, তাদের উভয়ের হাত কব্জায় আবদ্ধ রয়েছে। দানশীল ব্যক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে, তখন বর্মটি তার দেহের উপর প্রসারিত হয়, এমনকি তা তার পায়ের চিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ ব্যক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে তখন বর্মের কড়াগুলো পরস্পর গলে গিয়ে তার শরীরকে আঁকড়ে ধরে এবং তার উভয় হস্ত কন্ঠের সঙ্গে লেগে যায়। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, সে হাত দু’টিকে প্রসারিত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে; কিন্তু প্রসারিত করতে পারে না।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: সফরে এবং যুদ্ধে জোববা পরিধান করা |
বর্ণনাকারী: মুগীরাহ ইবনু শু‘বা
হাদিস নং (২৯১৮):
মুগীরাহ ইবনু শু‘বা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা হাজত পূরণের জন্য গেলেন। সেখান থেকে ফিরে এলে আমি তাঁর নিকট পানি নিয়ে গেলাম। তিনি তা দিয়ে উযু করেন। তাঁর পরিধানে ছিল সিরীয় জোববা। তিনি কুলি করেন, নাকে পানি দেন ও মুখমণ্ডল ধৌত করেন। অতঃপর তিনি জামার আস্তিন গুটিয়ে দু’টি হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু আস্তিন দু’টি ছিল খুবই আঁটসাঁট। তাই তিনি ভেতরের দিক থেকে হাত বের করে উভয় হাত ধুলেন এবং মাথা মসেহ করলেন এবং উভয় মোজার উপর মাস্হ করলেন।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: যুদ্ধে রেশমী পরিচ্ছদ পরিধান করা। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৯১৯):
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) ও যুবায়র (রাঃ)-কে তাদের শরীরে চুলকানি থাকায় রেশমী জামা পরিধান করতে অনুমতি দিয়েছিলেন।
|
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার |
উপ-অধ্যায়: যুদ্ধে রেশমী পরিচ্ছদ পরিধান করা। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৯২০):
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুর রহমান ও যুবায়র (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উকুনের অভিযোগ করলে তিনি তাদেরকে রেশমী পোষাক পরার অনুমতি দেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি যুদ্ধে তাদের দেহে তা দেখেছি।
|