তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

হাদিস সমূহ
বর্ণনাকারী: সবগুলো
হাদিস সংখ্যা: ৩৩৬৫
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: যুদ্ধে নারীদের মশ্ক নিয়ে লোকদের নিকট যাওয়া। | বর্ণনাকারী: সা‘লাবাহ ইবনু আবূ মালিক
হাদিস নং (২৮৮১): সা‘লাবাহ ইবনু আবূ মালিক হতে বর্ণিত যে, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) মদিনার কিছু সংখ্যক মহিলার মধ্যে কয়েকখানা (রেশমী) চাদর বণ্টন করেন। অতঃপর একটি ভাল চাদর রয়ে গেল। তাঁর নিকট উপস্থিত একজন তাঁকে বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! এ চাদরটি আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নাতনী উম্মু কুলসুম বিন্তে ‘আলী (রাঃ) যিনি আপনার নিকট আছেন, তাকে দিয়ে দিন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, উম্মু সালীত (রাঃ) এই চাদরটির অধিক হক্দার। উম্মু সালীত (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতে বায়‘আতকারিণী আনসার মহিলাদের একজন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, কেননা, উম্মু সালীত (রাঃ) উহুদের যুদ্ধে আমাদের নিকট মশক বহন করে নিয়ে আসতেন। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, تَزْفِرُ অর্থ তিনি সেলাই করতেন।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: নারীগণ কর্তৃক যুদ্ধে আহতদের সেবা ও শশ্রুষা। | বর্ণনাকারী: রুবাইয়ি‘ বিনতু মআব্বিয (রাঃ)
হাদিস নং (২৮৮২): রুবাইয়ি‘ বিনতু মআব্বিয (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা (যুদ্ধের ময়দানে) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে থেকে লোকেদের পানি পান করাতাম, আহতদের পরিচর্যা করতাম এবং নিহতদের মদিনা্য় পাঠাতাম।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: নারীদের সাহায্যে হতাহতদের মদীনায় প্রত্যাহার। | বর্ণনাকারী: রুবাইয়ি‘ বিনতু মু‘আব্বিয (রাঃ)
হাদিস নং (২৮৮৩): রুবাইয়ি‘ বিনতু মু‘আব্বিয (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে যুদ্ধে শরীক হয়ে লোকেদের পানি পান করাতাম ও তাদের পরিচর্যা করতাম এবং আহত ও নিহত লোকদের মদিনা্য় ফেরত পাঠাতাম।’
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: দেহ হতে তীর বহিষ্করণ। | বর্ণনাকারী: আবূ মূসা (রাঃ)
হাদিস নং (২৮৮৪): আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (যুদ্ধে) আবূ ‘আমিরের হাঁটুতে তীর বিদ্ধ হলো, আমি তাঁর নিকট গেলাম। আবূ ‘আমির (রাঃ) বললেন, এই তীরটি বের কর। তখন আমি তীরটি টেনে বের করলাম। ফলে তাত্থেকে পানি প্রবাহিত হতে লাগল। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট গেলাম এবং তাঁকে ঘটনাটি জানালাম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘হে আল্লাহ্! আবূ ‘আমির ‘উবায়দকে ক্ষমা করুন।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর পথে যুদ্ধে প্রহরা দান। | বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৮৮৫): আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (এক রাতে) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জেগে কাটান। অতঃপর তিনি যখন মদিনা্য় এলেন এই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেন যে, আমার সাহাবীদের মধ্যে কোন যোগ্য ব্যক্তি যদি রাতে আমার পাহারায় থাকত। এমন সময় আমরা অস্ত্রের শব্দ শুনতে পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কে? ব্যক্তিটি বলল, আমি সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস, আপনার পাহারার জন্য এসেছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমিয়ে গেলেন।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর পথে যুদ্ধে প্রহরা দান। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৮৮৬): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, লাঞ্ছিত হোক দ্বীনার ও দিরহামের গোলাম এবং চাদর ও শালের গোলাম। তাকে দেয়া হলে সন্তুষ্ট হয়, না দেয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়। এই হাদীসটির সনদ ইসরাঈল এবং মুহাম্মাদ ইবনু জুহাদা, আবূ হুসাইনের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছাননি।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: মহান আল্লাহর পথে যুদ্ধে প্রহরা দান। | বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৮৮৭): আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে আমাদের অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, লাঞ্ছিত হোক দ্বীনারের গোলাম, দিরহামের গোলাম এবং শালের গোলাম। তাকে দেয়া হলে সন্তুষ্ট হয়, না দেয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়। এরা লাঞ্ছিত হোক, অপমানিত হোক। (তাদের পায়ে) কাঁটা বিদ্ধ হলে তা কেউ তুলে দিবে না। ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ, যে ঘোড়ার লাগাম ধরে জিহাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যার মাথার চুল উস্ক খুস্ক এবং পা ধূলি মলিন। তাকে পাহারায় নিয়োজিত করলে পাহারায় থাকে আর (দলের) পেছনে পেছনে রাখলে পেছনেই থাকে। সে কারো সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেয়া হয় না এবং কোন বিষয়ে সুপারিশ করলে তার সুপারিশ কবূল করা হয় না। وَقَالَ فَتَعْسًا كَأَنَّهُ يَقُوْلُ فَأَتْعَسَهُمْ اللهُ طُوْبَى فُعْلَى مِنْ كُلِّ شَيْءٍ طَيِّبٍ وَهِيَ يَاءٌ حُوِّلَتْ إِلَى الْوَاوِ وَهِيَ مِنْ يَطِيْبُ فَتَعْسًا বলা হয়فَأَتْعَسَهُمْ اللهُ অর্থাৎ আল্লাহ তাদের অপমানিত করুক। طُوْبَى অর্থ উত্তম। فُعْلَى... এর কাঠামোতে গঠিত। মূলত طيبى ছিল। يَاءٌ কে وَاوِ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: যুদ্ধে খিদমাতের ফযীলত। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (২৮৮৮): আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমি জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমার খিদমাত করতেন। যদিও তিনি আনাস (রাঃ)-এর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। জারীর (রাঃ) বলেন, আমি আন্সারদের এমন কিছু কাজ দেখেছি, যার কারণে তাদের কাউকে পেলেই সম্মান করি।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: যুদ্ধে খিদমাতের ফযীলত। | বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (২৮৮৯): আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে খায়বার যুদ্ধে গিয়ে তাঁর খিদমত করছিলাম। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখান থেকে ফিরলেন এবং উহুদ পর্বত তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো, তিনি বললেন, ‘এই পর্বত আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি।’ অতঃপর তিনি হাত দ্বারা মদিনার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, ‘হে আল্লাহ্! ইব্রাহীম (আঃ) যেমন মক্কাকে হারাম বানিয়েছিলেন, তেমনি আমিও এ দুই কংকরময় ময়দানের মধ্যবর্তী স্থান (মদিনা্)-কে হারাম বলে ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ্! আপনি আমাদের সা‘ ও মুদে বরকত দান করুন।
অধ্যায়: জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার | উপ-অধ্যায়: যুদ্ধে খিদমাতের ফযীলত। | বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৮৯০): আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সফরে আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তির ছায়াই ছিল সর্বাধিক যে তার চাদর দ্বারা ছায়া গ্রহণ করছিল। তাই যারা সিয়াম পালন করছিল তারা কোন কাজই করতে পারছিল না। যারা সিয়াম রত ছিল না, তারা উটের দেখাশুনা করছিল, খিদমতের দায়িত্ব পালন করছিল এবং পরিশ্রমের কাজ করছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘যারা সওম পালন করে নি তারাই আজ সাওয়াব নিয়ে গেল।’