অধ্যায়: ওয়াসিয়াত |
উপ-অধ্যায়: কোন দল যদি তাদের শরীকী জমি ওয়াক্ফ করে তা জায়িয। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৭৭১):
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাসজিদ তৈরির নির্দেশ দিলেন। অতঃপর বললেন, হে বানূ নাজ্জার! তোমরা এই বাগানটির মূল্য নির্ধারণ করে আমার নিকট বিক্রি কর। তারা বলল, না। আল্লাহর কসম! আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে এর মূল্য চাই না।
|
অধ্যায়: ওয়াসিয়াত |
উপ-অধ্যায়: ওয়াকফ কিভাবে লিখিত হবে? |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (২৭৭২):
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) খায়বারের কিছু জমি লাভ করেন। তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, আমি এমন ভাল একটি জমি পেয়েছি, যা ইতোপূর্বে কখনো পাইনি। আপনি এ সম্পর্কে আমাকে কী নির্দেশ দেন? তিনি বলেন, তুমি ইচ্ছা করলে আসল জমিটি ওয়াক্ফ করে তার উৎপন্ন সাদাকা করতে পার। ‘উমার (রাঃ) এটি গরীব, আত্মীয়-স্বজন, গোলাম আযাদ, আল্লাহর পথে, মেহমান ও মুসাফিরদের জন্য এ শর্তে সাদাকা করলেন যে, আসল জমি বিক্রি করা যাবে না, কাউকে দান করা যাবে না, কেউ এর ওয়ারিস হবে না। তবে যে এর মুতাওয়াল্লী হবে তার জন্য তা থেকে সঙ্গত পরিমাণ খেতে বা বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়ানোতে কোন দোষ নেই। তবে এ থেকে সঞ্চয় করা যাবে না।
|
অধ্যায়: ওয়াসিয়াত |
উপ-অধ্যায়: গরীব, ধনী এবং মেহমানের জন্য ওয়াক্ফ করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (২৭৭৩):
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘উমার (রাঃ) খায়বারে কিছু সম্পদ লাভ করেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে অবহিত করেন। তিনি বললেন, তুমি ইচ্ছা করলে সেটি সাদাকা করতে পার। অতঃপর তিনি সেটি অভাবগ্রস্ত, মিসকীন, আত্মীয়-স্বজন ও মেহমানদের মধ্যে সাদাকা করে দিলেন।
|
অধ্যায়: ওয়াসিয়াত |
উপ-অধ্যায়: মসজিদের জন্য জমি ওয়াকফ করা। |
বর্ণনাকারী: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিস নং (২৭৭৪):
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদিনা্য় এলেন তখন মাসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিলেন এবং তিনি বললেন, ‘হে বানূ নাজ্জার! মূল্য নির্ধারিত করে তোমাদের এ বাগানটি আমার নিকট বিক্রি করে দাও।’ তারা বলল, না, আল্লাহর কসম! মহান আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে আমরা এর মূল্য চাই না।’
|
অধ্যায়: ওয়াসিয়াত |
উপ-অধ্যায়: পশু, অশ্ব, আসবাবপত্র ও স্বর্ণ-রৌপ্য ওয়াক্ফ করা। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ’উমার (রাঃ
হাদিস নং (২৭৭৫):
ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ’উমার (রাঃ) এক ব্যক্তিকে তার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দেন, যেটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে আরোহণ করার জন্য দিয়েছিলেন, তিনি এক ব্যক্তিকে তা আরোহণ করার জন্য দিলেন। ’উমার (রাঃ)-কে জানান হলো যে, ঘোড়াটি সে ব্যক্তি বিক্রির জন্য রেখে দিয়েছে। তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সেটি ক্রয় করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, ’তুমি তা ক্রয় করবে না এবং যা সাদাকা করে দিয়েছ তা আর ফিরিয়ে নিও না।’
|
অধ্যায়: ওয়াসিয়াত |
উপ-অধ্যায়: ওয়াক্ফের তদারককারীর ব্যয় নির্বাহ। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৭৭৬):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘আমার উত্তরাধিকারীরা কোন স্বর্ণ মুদ্রা এবং রৌপ্য মুদ্রা ভাগাভাগি করবে না, বরং আমি যা কিছু রেখে গেলাম তা থেকে আমার স্ত্রীদের খরচ এবং কর্মচারীদের পারিশ্রমিক দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সাদাকা।’
|
অধ্যায়: ওয়াসিয়াত |
উপ-অধ্যায়: ওয়াক্ফের তদারককারীর ব্যয় নির্বাহ। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (২৭৭৭):
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘উমার (রাঃ) তাঁর ওয়াক্ফে এই শর্তারোপ করেন যে, মুতাওয়াল্লী তা থেকে নিজে খেতে পারবে এবং বন্ধু-বান্ধবকেও খাওয়াতে পারবে, তবে সম্পদ জমা করতে পারবে না।
|
অধ্যায়: ওয়াসিয়াত |
উপ-অধ্যায়: যখন কেউ জমি বা কূপ ওয়াকফ করে এবং অপরাপর মুসলিমদের মত সে নিজেও পানি নেয়ার শর্ত আরোপ করে। |
বর্ণনাকারী: আবদুর রহমান (রাঃ)
হাদিস নং (২৭৭৮):
আবদুর রহমান (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ’উসমান (রাঃ) অবরুদ্ধ হলে তিনি উপর থেকে সাহাবীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে বললেন, আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদেরকেই আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনারা কি জানেন না যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন, যে ব্যক্তি রূমার কুপটি খনন করে দিবে সে জান্নাতী এবং আমি তা খনন করে দিয়েছি। আপনারা কি জানেন না যে, তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তি তাবূকের যুদ্ধে সেনাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেবে, সে জান্নাতী এবং আমি তা ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবীগণ তাঁর কথা সত্য বলে স্বীকার করলেন। ’উমার (রাঃ) তাঁর কথা সম্পর্কে বলেছিলেন, মুতওয়াল্লীর জন্য তা থেকে আহার করতে কোন দোষ নেই। ওয়াক্ফকারী কখনো নিজে মুতওয়াল্লী হয় আবার কখনো অপর ব্যক্তি হয়। এ ব্যাপারে সকলের জন্য প্রশস্ততা রয়েছে
|
অধ্যায়: ওয়াসিয়াত |
উপ-অধ্যায়: ওয়াকফকারী যদি বলে, আমি একমাত্র আল্লাহর নিকট এর মূল্য পেতে চাই তা জায়িয। |
বর্ণনাকারী: আনাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৭৭৯):
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে বানূ নাজ্জার! তোমাদের বাগানটি মূল্য নির্ধারণ করে আমার নিকট বিক্রি করে দাও। তারা বলল, আমরা এর মূল্য একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে চাই না।
|
অধ্যায়: ওয়াসিয়াত |
উপ-অধ্যায়: আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ |
বর্ণনাকারী: ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)
হাদিস নং (২৭৮০):
ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহম গোত্রের এক ব্যক্তি তামীম দারী ও আদী ইবনু বাদ্দা (রহ.)-এর সঙ্গে সফরে বের হন এবং সাহম গোত্রের ব্যক্তিটি এমন এক স্থানে মারা যান, যেখানে কোন মুসলিম ছিল না। তারা দু’জন তার পরিত্যক্ত জিনিস পত্র নিয়ে ফিরে আসলে মৃতের আত্মীয়-স্বজন তার মধ্যে স্বর্ণ খচিত একটি রূপার পেয়ালা পেলেন না। এ সম্পর্কে তাদের দু’জনকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কসম করালেন। অতঃপর পেয়ালাটি মক্কা্য় পাওয়া গেল। (যাদের নিকট পাওয়া গেল) তারা বলল, আমরা এটি তামীম ও আদী (রহ.)-এর নিকট থেকে খরিদ করেছি। অতঃপর মৃতের আত্মীয়দের মধ্য থেকে দু’ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কসম করে বলে, এ দু’জনের সাক্ষ্য থেকে আমাদের সাক্ষ্য অধিক গ্রহণীয়। নিশ্চয়ই এ পেয়ালাটি তাদের আত্মীয়ের। বর্ণনাকারী বলেন, তাদের সম্বন্ধে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়ঃ يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ ( المائدة : 106) (আল-মায়িদাহঃ ১০৬)
|