অধ্যায়: শর্তাবলী |
উপ-অধ্যায়: বিবাহ বন্ধনের সময় মাহর সম্পর্কে শর্তাবলী। |
বর্ণনাকারী: উকবাহ ইবনু ’আমির (রাঃ)
হাদিস নং (২৭২১):
উকবাহ ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, শর্তসমূহের মধ্যে যা পূর্ণ করার সর্বাধিক দাবী রাখে তা হল সেই শর্ত যার দ্বারা তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের হালাল করেছ।
|
অধ্যায়: শর্তাবলী |
উপ-অধ্যায়: বর্গাচাষের শর্তাবলী। |
বর্ণনাকারী: রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ)
হাদিস নং (২৭২২):
রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারদের মধ্যে আমরা অধিক শস্য ক্ষেত্রের মালিক ছিলাম। তাই আমরা জমি বর্গা দিতাম। কখনো এ অংশে ফসল হতো, আর ঐ অংশে ফসল হতো না। তখন আমাদের তা করতে নিষেধ করে দেয়া হলো। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে চাষ করতে দিতে নিষেধ করা হয়নি।
|
অধ্যায়: শর্তাবলী |
উপ-অধ্যায়: বিবাহে যে সব শর্ত বৈধ নয়। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৭২৩):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, শহরবাসী গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রয় করবে না। আর তোমরা (মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশে) দালালী করবে না। কেউ যেন তার ভাইয়ের ক্রয়ের উপরে দাম না বাড়ায় এবং কেউ যেন তার ভাইয়ের (বিবাহের) প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। আর কোন স্ত্রীলোক যেন তার বোনের (সতীনের) পাত্রের অধিকারী হওয়ার উদ্দেশে তার তালাকের চেষ্টা না করে।
|
অধ্যায়: শর্তাবলী |
উপ-অধ্যায়: দন্ড বিধিতে যে সকল শর্ত বৈধ নয়। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৭২৪):
আবূ হুরাইরাহ্ ও যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, এক বেদুঈন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আমার বাপারে আল্লাহর কিতাব মত ফয়সালা করুন।’ তখন তার প্রতিপক্ষ, যে তার তুলনায় বেশি জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন সে বলল, ‘হ্যাঁ, আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব মত ফয়সালা করুন এবং আমাকে বলার অনুমতি দিন।’ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘বল’। সে বলল, আমার ছেলে এর নিকট মজুর ছিলো। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করেছে। আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, আমার ছেলের প্রাপ্য দন্ড হল রাজম। তখন আমি তাকে (ছেলেকে) একশ’ বকরী এবং একটি বাঁদীর বিনিময়ে তার নিকট হতে ছাড়িয়ে এনেছি। পরে আমি আলিমদের জিজ্ঞেস করলাম। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার ছেলের দন্ড হল একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। আর এই লোকের স্ত্রীর দন্ড হল রাজম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, অবশ্যই আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করব। বাঁদী এবং একশ’ বকরী তোমাকে ফেরত দেয়া হবে। আর তোমার ছেলের শাস্তি একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। হে উনায়স! আগামীকাল সকালে এ লোকের স্ত্রীর নিকট যাবে। যদি সে স্বীকার করে তাহলে তাকে রাজম করবে। রাবী বলেন, উনায়স (রাঃ) পরদিন সকালে সে স্ত্রীলোকের নিকট গেলেন। সে অপরাধ স্বীকার করল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশে তাকে রাজম করা হল।
|
অধ্যায়: শর্তাবলী |
উপ-অধ্যায়: দন্ড বিধিতে যে সকল শর্ত বৈধ নয়। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৭২৫):
আবূ হুরাইরাহ্ ও যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, এক বেদুঈন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, আমার বাপারে আল্লাহর কিতাব মত ফয়সালা করুন।’ তখন তার প্রতিপক্ষ, যে তার তুলনায় বেশি জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন সে বলল, ‘হ্যাঁ, আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব মত ফয়সালা করুন এবং আমাকে বলার অনুমতি দিন।’ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘বল’। সে বলল, আমার ছেলে এর নিকট মজুর ছিলো। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করেছে। আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, আমার ছেলের প্রাপ্য দন্ড হল রাজম। তখন আমি তাকে (ছেলেকে) একশ’ বকরী এবং একটি বাঁদীর বিনিময়ে তার নিকট হতে ছাড়িয়ে এনেছি। পরে আমি আলিমদের জিজ্ঞেস করলাম। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার ছেলের দন্ড হল একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। আর এই লোকের স্ত্রীর দন্ড হল রাজম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, অবশ্যই আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করব। বাঁদী এবং একশ’ বকরী তোমাকে ফেরত দেয়া হবে। আর তোমার ছেলের শাস্তি একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। হে উনায়স! আগামীকাল সকালে এ লোকের স্ত্রীর নিকট যাবে। যদি সে স্বীকার করে তাহলে তাকে রাজম করবে। রাবী বলেন, উনায়স (রাঃ) পরদিন সকালে সে স্ত্রীলোকের নিকট গেলেন। সে অপরাধ স্বীকার করল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশে তাকে রাজম করা হল।
|
অধ্যায়: শর্তাবলী |
উপ-অধ্যায়: মুক্ত করা হবে এ শর্তে মুকাতাব বিক্রিত হতে রাযী হলে তার জন্য কী কী শর্ত জায়িয। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৭২৬):
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুকাতাবা অবস্থায় বারীরা আমার নিকট এসে বলল, হে উম্মুল মুমিনীন! আপনি আমাকে কিনে নিন। কারণ আমার মালিক আমাকে বিক্রি করে ফেলবে। অতঃপর আমাকে আযাদ করে দিন। তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে, বারীরাহ বলল, ‘ওয়ালা’র অধিকার মালিকের থাকবে- এ শর্ত না রেখে তারা আমাকে বিক্রি করবে না।’ তিনি বললেন, তবে তোমাকে দিয়ে আমার কোন দরকার নেই। পরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা শুনলেন কিংবা তাঁর নিকট সে সংবাদ পৌঁছল। তখন তিনি বললেন, বারীরার খবর কী? এবং বললেন, তাকে কিনে নাও। অতঃপর তাকে আযাদ করে দাও। তারা যত ইচ্ছা শর্তারোপ করুক। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি তাকে কিনে নিলাম এবং আযাদ করে দিলাম। তার মালিক পক্ষ ‘ওয়ালা’র শর্তারোপ করল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘ওয়ালা’ তারই হবে, যে আযাদ করবে, তারা শত শর্তারোপ করলেও।
|
অধ্যায়: শর্তাবলী |
উপ-অধ্যায়: তালাকের শর্তাবলী। |
বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হাদিস নং (২৭২৭):
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাউকে শহরের বাইরে গিয়ে বাণিজ্য বহরের কাফেলা থেকে মাল কিনতে নিষেধ করেছেন। আর বেদুঈনের পক্ষ হয়ে মুহাজিরদেরকে কোন কিছু বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আর কোন স্ত্রীলোক যেন তার বোনের (অপর স্ত্রীলোকের) তালাকের শর্তারোপ না করে আর কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের দামের উপর দাম না করে এবং নিষেধ করেছেন দালালী করতে, (মূল্য বাড়ানোর উদ্দেশে) এবং স্তন্যে দুধ জমা করতে (ধোঁকা দেয়ার উদ্দেশে)। মুআয ও ‘আবদুস সমদ (রহ.) শু‘বাহ (রহ.) থেকে হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মদ ইবনু আরআরা (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন। গুনদার ও ‘আবদুর রহমান (রহ.) نُهِيَ বলেছেন এবং আদম (রহ.) বলেছেন, نُهِيْنَا আর নাযর ও হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল বলেছেন, نَهَى।
|
অধ্যায়: শর্তাবলী |
উপ-অধ্যায়: লোকজনের সাথে মৌখিক শর্ত করা। |
বর্ণনাকারী: উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)
হাদিস নং (২৭২৮):
উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল মূসা (আঃ) বলেন। অতঃপর তিনি পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করেন। (এ ব্যাপারে খিয্র (আঃ)-এর এ কথাটি উল্লেখ করেন যা তিনি মূসা (আঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন), আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করতে পারবে না? [মূসা (আঃ)-এর আপত্তি] প্রথমটি ছিল ভুলক্রমে, দ্বিতীয়টি শর্ত মুতাবিক, তৃতীয়টি ইচ্ছাকৃত। মূসা (আঃ) বললেন, আপনি আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না এবং আমার ব্যাপারে অত্যধিক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না। তাঁরা উভয়ে এক বালকের সাক্ষাৎ পেলেন এবং খিয্র (আঃ) তাকে হত্যা করলেন। অতঃপর তাঁরা উভয়ে পথ চলতে লাগলেন। কিছু দূর এগিয়ে তাঁরা পতনোন্মুখ একটি প্রাচীর দেখতে পেলেন। খিয্র (আঃ) প্রাচীরটি সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আয়াতের وَرَاءَهُمْ مَلِكٌ এর স্থলে أَمَامَهُمْ مَلِكٌ পড়েছেন।
|
অধ্যায়: শর্তাবলী |
উপ-অধ্যায়: ওয়ালা’র ব্যাপারে অধিকার অর্জনের শর্তারোপ। |
বর্ণনাকারী: আয়িশাহ (রাঃ)
হাদিস নং (২৭২৯):
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরাহ আমার নিকট এসে বলল, আমি আমার মালিকের সঙ্গে নয় উকিয়ার বিনিময়ে আমাকে স্বাধীন করার এক চুক্তি করেছি। প্রতি বছর এক উকিয়া করে পরিশোধ করতে হবে। এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করুন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তারা যদি এ শর্তে রাযী হয় যে, আমি তাদের সমস্ত প্রাপ্য একবারে দিয়ে দিই এবং তোমার ‘ওয়ালা’ আমার জন্য থাকবে, তাহলে আমি তা করব। বারীরাহ তার মালিকের নিকট গিয়ে এ কথা বলল; কিন্তু তারা তাতে অস্বীকৃতি জানাল। অতঃপর বারীরাহ তাদের নিকট হতে ফিরে এল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপবিষ্ট ছিলেন। বারীরাহ বলল, আমি তাদের নিকট প্রস্তাবটি পেশ করেছি, ‘ওয়ালা’র অধিকার তাদের জন্য না হলে, এতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শুনলেন এবং ‘আয়িশাহ (রাঃ)-ও তাঁকে জানালেন। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি বারীরাহ্কে নিয়ে নাও এবং তাদের জন্য ‘ওয়ালা’র অধিকারের শর্ত কর। কারণ ‘ওয়ালা’র অধিকার তো তারই যে মুক্ত করবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাই করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি করে বললেন, ‘লোকদের কী হল যে, তারা এমন সব শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই? আল্লাহর কিতাবের বহির্ভুত যে কোন শর্ত বাতিল, যদিও শত শর্তারোপ করা হয়। আল্লাহর হুকুম যথার্থ ও তাঁর শর্ত সুদৃঢ়। ওয়ালা তো তারই যে মুক্ত করে।’
|
অধ্যায়: শর্তাবলী |
উপ-অধ্যায়: বর্গাচাষের ক্ষেত্রে এমন শর্তারোপ করা যে, যখন ইচ্ছা আমি তোমাকে বের করে দিব। |
বর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাদিস নং (২৭৩০):
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন খায়বারবাসীরা ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর হাত পা ভেঙ্গে দিল, তখন ‘উমার (রাঃ) ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন এবং বললেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারের ইয়াহূদীদের সঙ্গে তাদের মাল সম্পত্তি সম্পর্কে চুক্তি করেছিলেন এবং বলেছিলেন, আল্লাহ্ তাআলা যতদিন তোমাদের রাখেন, ততদিন আমরাও তোমাদের রাখব। এই অবস্থায় ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাঁর নিজ সম্পত্তি দেখাশুনা করার জন্য খায়বার গমন করলে রাতে তাঁর উপর আক্রমণ করা হয় এবং তাঁর দু’টি হাত পা ভেঙ্গে দেয়া হয়। সেখানে ইয়াহূদীরা ব্যতীত আমাদের আর কোন শত্রু নেই। তারাই আমাদের দুশমন। তাদের উপর আমাদের সন্দেহ হয়। অতএব আমি তাদের নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ‘উমার (রাঃ) যখন এ ব্যাপারে তাঁর দৃঢ় মত প্রকাশ করলেন, তখন আবূ হুকায়ক গোত্রের এক ব্যক্তি এসে বলল, ‘হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি কি আমাদেরকে খায়বার থেকে বের করে দিবেন? অথচ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে এখানে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছিলেন। আর উক্ত সম্পত্তির ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে বর্গাচাষের ব্যবস্থা করেন এবং আমাদের এ শর্তে দেন।’ ‘উমার (রাঃ) বললেন, ‘তুমি কি মনে করেছ যে, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সে উক্তি ভুলে গিয়েছি, ‘তোমার কী অবস্থা হবে, যখন তোমাকে খায়বার থেকে বের করে দেয়া হবে এবং তোমার উটগুলো রাতের পর রাত তোমাকে নিয়ে ছুটবে।’ সে বলল, ‘এটাতো আবুল কাসিমের বিদ্রূপাত্মক উক্তি ছিল’। ‘উমার (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর দুশমন! তুমি মিথ্যা বলছ।’ অতঃপর ‘উমার (রাঃ) তাদের নির্বাসিত করেন এবং তাদের ফল-ফসল, মালামাল, উট, লাগাম রজ্জু ইত্যাদি দ্রব্যের মূল্য দিয়ে দেন। রিওয়ায়াতটি হাম্মাদ ইবনু সালামাহ (রহ.)..... ‘উমার (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেন।
|